
২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এই দিনটা সারা পৃথিবীতে স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়নোর উদ্দেশ্যে পালিত হয়। আসলে স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের গুরুতর সমস্যা। এক্ষেত্রে ব্রেনের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে বা রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে স্ট্রোক হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক কাজকর্ম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। যেই কারণে প্যারালিসিস বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আর আশঙ্কার বিষয় হল এখন কমবয়সীদের মধ্যেও ক্রমশ বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি। যদিও ভাল খবর হল, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই বিশিষ্ট কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা: বৈভব শেঠ এমন ৫টি লাইফস্টাইল চেঞ্জ সম্পর্কে বললেন, যেগুলির মাধ্যমে স্ট্রোককে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
১. পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি
প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ভাল ঘুম চাই। পাশাপাশি, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকা, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম, এই লক্ষণগুলি অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এই সমস্যার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা মাস্ট
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট এক্সারসাইজ করুন। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়াম খুবই উপকারী। আসলে নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, কোলেস্টেরল এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমতে পারে।
৩. তামাক বর্জন করুন
সিগারেট, বিড়ি, গুটখা, খৈনি সহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে যেতে হবে। আসলে তামাক রক্তনালীর ক্ষতি করে। এমনকী রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে স্ট্রোকের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
৪. প্রেশার ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করান
স্ট্রোকের অন্যতম ঝুঁকির কারণ হল উচ্চ রক্তচাপ। আসলে হাই ব্লাডপ্রেশার এবং ডায়াবেটিস, এই দুই রোগই কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরে উপস্থিত থাকতে পারে। তাই কমবয়সীদেরও নিয়মিত প্রেশার ও সুগার পরীক্ষা করা জরুরি।
এই সমস্যাগুলি ধরা পড়লে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন করুন। এমনকী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খান। তাহলেই সুস্থ থাকবেন।
৫. হার্ট থাকুক সুস্থ
সুস্থ হৃদযন্ত্র মানেই সুস্থ মস্তিষ্ক। তাই হার্টের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য, ডাল এবং বাদাম রাখুন। পাশাপাশি অতিরিক্ত নুন, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং হাই প্রসেসড খাবার খাওয়া কমান। ওজন রাখুন স্বাভাবিক। কোলেস্টেরলের মাত্রার দিকেও নজর দিন।
স্ট্রোকের লক্ষণ কী?
স্ট্রোকের লক্ষণগুলিও চিনে রাখা জরুরি। হঠাৎ মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া, হাত বা পায়ে দুর্বলতা দেখা দেওয়া কিংবা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, এই লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।