
ভারতে বিয়েকে দীর্ঘকাল ধরে সাত জন্মের বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে। বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রচলিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি, বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং প্ল্যাটফর্ম গ্লিডেন ভারতে ৪০ লক্ষ ইউজারের সংখ্যা অতিক্রম করেছে, যা এটা তুলে ধরে বিয়ে এবং বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা বদলে যাচ্ছে।
মহিলা ইউজারের সংখ্যা বৃদ্ধি
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো মহিলা ইউজারদের সংখ্যা বৃদ্ধি। বর্তমানে অ্যাপটিতে পুরুষ ইউজারের সংখ্যাই বেশি, যা মোট ইউজারের প্রায় ৬৫%। অন্যদিকে, মহিলা ইউজারদের সংখ্যা ৩৫%, কিন্তু গত দুই বছরে তাদের সংখ্যায় দুরন্ত বৃদ্ধি দেখা গেছে। মহিলাদের ইউজারদের ক্ষেত্রে ১৪৮% বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে,মহিলারা নিজেদের সুখের বিষয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে আর দ্বিধা করেন না। বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের মতো শহরগুলিতে মহিলারা তাদের সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে স্থিতিশীলতা খোঁজেন, কিন্তু তাঁরা রোমাঞ্চের সন্ধানে নতুন জগতে পা রাখতেও দ্বিধা করছেন না।
২০২৪ সালে, গ্লিডেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের শহরগুলোতে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১,৫০৩ জন বিবাহিত ভারতীয়কে নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বর্তমানে মানুষ বিবাহ এবং পরকীয়াকে কীভাবে দেখে তা বোঝা। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে , প্রচলিত সম্পর্কের কাঠামোকে প্রশ্ন করার প্রবণতা বাড়ছে, যদিও সামাজিক প্রত্যাশাগুলো মূলত অপরিবর্তিতই রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৬০ শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতা অপ্রচলিত ডেটিং পদ্ধতি গ্রহণ করছেন, যেমন সুইংগিং (একটি যৌন কার্যকলাপ যেখানে অবিবাহিত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকা উভয়েই বিনোদনের উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে মিলিত হন)।
দূরত্ব কেন বাড়ছে?
এর একটি প্রধান কারণ হলো কর্পোরেট জীবনের ব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্বের মাঝে নিজের জন্য সময়ের অভাব এবং সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক সংযোগের অভাব। এই মানসিক সংযোগের অভাবই মানুষকে ডিজিটাল জগতের দিকে ঠেলে দেয়। মানুষ প্রায়শই তাদের একঘেয়ে জীবনে একটু উত্তেজনার অনুভূতি পেতে বিরতির সময় বা গভীর রাতে এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে।
কোন শহরগুলো এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে?
বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো ভারতীয় মহানগরগুলি তালিকার শীর্ষে রয়েছে, তবে লখনউ এবং সুরাটের মতো ছোট শহরগুলিও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। ১৮% ইউজার নিয়ে বেঙ্গালুরু শীর্ষে রয়েছে, এরপরে রয়েছে হায়দরাবাদ (১৭%), দিল্লি (১১%), মুম্বই (৯%) এবং পুনে (৭%)। তবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হলো লখনউ, চণ্ডীগড়, সুরাট, কোয়েম্বাটুর, পটনা এবং গুয়াহাটির মতো ছোট শহরগুলো থেকে ইউজারদের সংখ্যা বৃদ্ধি। মজার বিষয় হলো, লোকেরা এই অ্যাপগুলি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে অথবা রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে।