
পাইন বনে ঘেরা শান্ত পরিবেশ, হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ আর সামনে বিশাল পাহাড়। প্যাঁচপ্যাঁচে গরম থেকে মুক্তি পেতে এখন এই পরিকল্পনাই করছেন সকলে। হাজার হাজার পর্যটক জনপ্রিয় হিল স্টেশনগুলিতে যাওয়ার জন্য টিকিট টাকার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। তবে আপনার বেড়ানোর তালিকায় এই ৫ হিল স্টেশন নেই তো? তাহলেই ভোগান্তির শিকার হতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ভাইরাল ভিডিও ও পর্যটকদের অভিজ্ঞতা বলছে, পাহাড়ের মনোরম পরিবেশের বদলে অনেক ক্ষেত্রেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির লাইনে দাঁড়িয়ে কাটছে ছুটি। তাই এই গরমে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকেই।
মানালি: ভারতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়া হিল স্টেশনগুলির মধ্যে অন্যতম মানালি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এর আগেও তুষারপাত দেখতে আসা পর্যটকদের ভিড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে থাকার ঘটনা ঘটেছে। অনেককে আবার প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর গাড়ি ছেড়ে ট্রলি ব্যাগ টেনে হেঁটে যেতে হয়েছে। সারা বছর পর্যটকদের ভিড় সামলানোর মতো পরিকাঠামো না থাকায় সমস্যাও বাড়ছে।
শিমলা: গরমের ছুটিতে শিমলায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ৭২ ঘণ্টায় প্রায় ৭০ হাজার গাড়ি শহরে প্রবেশ করেছে। এক মাসেরও কম সময়ে ৬ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি গাড়ি পৌঁছেছে সেখানে। ব্রিটিশ আমলের সরু রাস্তা, সীমিত পার্কিং এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে এত যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ধালি-কুফরি রাস্তা প্রায়ই বড় যানজটের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
দার্জিলিং: ছবিতে এখনও দার্জিলিংকে স্বপ্নের মতো সুন্দর দেখালেও পর্যটনের মরশুমে বাস্তব চিত্র অনেকটাই আলাদা। এই গরমে শুধু যানজটই নয়, পর্যটকদের চাপে জলসংকটের সমস্যাও দেখা দিয়েছে বলে খবর। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। চৌরাস্তা, টাইগার হিল এবং মল রোডের মতো জনপ্রিয় এলাকায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে ভিড় ও যানজট। এমনকি ট্র্যাফিক সমস্যার কারণে স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতেও প্রভাব পড়ছে বলে জানা গিয়েছে।
মুসৌরি: দিল্লি-এনসিআর থেকে সহজে পৌঁছনো যায় বলেই মুসৌরিতে সপ্তাহান্তে পর্যটকদের ঢল নামে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ছুটির দিনে ৬ থেকে ৭ হাজার গাড়ি শহরে প্রবেশ করে, যা স্থানীয় পরিকাঠামোর উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে দেরাদুন থেকে এক ঘণ্টার রাস্তা অনেক সময় তিন ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে বহু পর্যটকই ভিড় ও যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নৈনিতাল: নৈনিতালের ভৌগোলিক অবস্থানও যানজটের অন্যতম কারণ। শহরের অধিকাংশ রাস্তা লেক এলাকার আশপাশে মিলিত হওয়ায় সামান্য গাড়ি বাড়লেই তৈরি হয় তীব্র যানজট। সপ্তাহান্ত ও গ্রীষ্মের ছুটিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সীমিত পার্কিং ব্যবস্থা, রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা এবং নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটক প্রবেশের ফলে দূষণ ও ট্র্যাফিক সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে।