
পুজোতে হাবিজাবি খাওয়া-দাওয়া প্রচুর হয়েছে। রোল, বিরিয়ানি, চাউমিন, চাইনিজ, বাঙালি খাবার সবটাই হয়েছে এই দুর্গাপুজোর আবহে। আর পুজো মানেই অধিকাংশ বাড়িতেই রান্নাবান্না একেবারে বন্ধ। দেদার বাইরের খাবার খেয়েই এই কদিন কেটেছে। কিন্তু পুজো মিটতেই মনটা সেই আবার ঘরের খাবারই খোঁজে। এই কদিন বাইরের মশলাদার খাবার খেতে খেতে পেটের অবস্থাও ঠিক নয়। এই সময় একটু হালকা পাতলা খাবার খেতেই মন চাইবে। আর সেখানে বাঙালি ঘরোয়া খাবারের জুড়ি মেলা ভার। সেরকমই দুটো হালকা খাবারের রেসিপি দেওয়া হল। যা গরম গরম ভাতে অমৃত মনে হতে পারে।
কালোজিরে আলু দিয়ে পাতলা মাছের ঝোল
পুজোর চার-পাঁচটা দিন জমিয়ে মশলাদার ও বাইরের খাওয়া-দাওয়া হয়েছে। আর পুজো মিটতেই মন এবং পেট চাইছে একেবারে হালকা খাবার খেতে। সুতরাং বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন কালোজিরে-টমেটো দিয়ে হালকা মাছের ঝোল। এর জন্য উপকরণ লাগবে নামমাত্র। বাজার থেকে কেনা টাটকা কাতলা বা রুই মাছ, কালোজিরে, আলু পাতলা করে কাটা, টমেটো কুচি, চেরা কাঁচালঙ্কা, হলুদ গুঁড়ো, নুন, সর্ষের তেল। প্রথমে মাছগুলোকে নুন-হলুদ মাখিয়ে নিন। এরপর কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে মাছগুলো হালকা করে ভেজে ফেলুন। এবার ওই তেলেই কালোজিরে দিন। এতে আলুগুলো হালকা করে ভেজে নিন। এতে হলুদ গোলা জল দিয়ে দিন। একটু নাড়িয়ে চেরা কাঁচালঙ্কা ও স্বাদমতো নুন ও টমেটো কুচি দিন। টমেটো নরম হলে পরিমাণমতো জল দিন। ঝোল ফুটে এলে ভাজা মাছগুলো দিন। নামানোর আগে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গরম ভাতে লেবু সহযোগে পরিবেশন করুন। পুজোর পর পারফেক্ট মেনু লাঞ্চের।
আলু দিয়ে হালকা চিকেনের ঝোল
দশমীর পরের দিনের ডিনারে যদি পাতলা করে চিকেন ঝোল করতে পারেন। তাহলে মন্দ হয় না। উপকরণ বলতে মুরগির মাংস ১ কেজি, আলু ডুমো করে কাটা, টমেটো কুচি, পেয়াঁজ-আদা-রসুন পেস্ট (সামান্য়), কাঁচালঙ্কা বাটা, হলুদ গুঁড়ো, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, নুন, গরম মশলা, ধনেপাতা কুচি, সর্ষের তেল। এই রেসিপিটা জলের মতো সহজ। প্রথমে কড়াইতে তেল গরম করে এতে গোটা গরম মশলা দিন। এবার বাটা মশলা দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন, টমেটো কুচি দিন। মশলা থেকে কাঁচা গন্ধ গেলে এতে এক এক করে গুঁড়ো মশলা দিয়ে দিন। এরপর আলু ও চিকেন একসঙ্গে দিয়ে কষাতে শুরু করুন। কিছুক্ষণ পর তেল ও মশলা আলাদা হলে পরিমাণমতো জল দিয়ে দিন। চিকেন ও আলু সেদ্ধ হলে ওপর থেকে গরম মশলার গুঁড়ো ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গরম ভাতে সার্ভ করে দিন।