Advertisement

Alcohol Impact On Men's Health: বিছানায় 'হিরো' হতে মদে চুমুক? ব্যর্থতার নেপথ্য নায়ক কিন্তু এই পানীয়ই!

Alcohol: একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, মদ্যপান করলে বোধহয় মনের যাবতীয় দ্বিধা, আড়ষ্টতা বা নার্ভাসনেস কেটে যায়, আর বিছানায় পারফরম্যান্সের গ্রাফও হয় ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

প্রতীকী ছবি (সৌজন্যে: পিক্সেলস) প্রতীকী ছবি (সৌজন্যে: পিক্সেলস)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 30 May 2026,
  • अपडेटेड 2:41 PM IST

রোজকার ইঁদুর দৌড়, অফিসের ডেডলাইন আর হাজারো মানসিক চাপের শেষে একটু স্বস্তি পেতে অনেকেই মদের গ্লাসে ভরসা রাখেন। বিশেষ করে কোনও রোম্যান্টিক ডেট বা একান্ত যাপনের রাতে একটু 'তরল সাহস' বা লিক্যুইড কারেজ সঞ্চয় করে নিতে চান অনেক পুরুষই। একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, মদ্যপান করলে বোধহয় মনের যাবতীয় দ্বিধা, আড়ষ্টতা বা নার্ভাসনেস কেটে যায়, আর বিছানায় পারফরম্যান্সের গ্রাফও হয় ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

চিকিৎসকেরা কিন্তু একেবারে উল্টো কথা বলছেন। বিছানায় আত্মবিশ্বাস বাড়ানো তো দূর, বরং এই মদের কারণেই চরম অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে পুরুষদের। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে অ্যালকোহল-ইনডিউসড ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, আর চলতি কথায় যাকে বলা হয় ‘হুইস্কি ডিক’। সোজা কথায়, মদ্যপানের পর শারীরিক মিলনের তীব্র ইচ্ছে থাকলেও, শরীর সঙ্গ না দেওয়া। আর পরিসংখ্যান বলছে, এই সমস্যা পুরুষদের মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

হায়দরাবাদের কেয়ার হাসপাতালের ইউরোলজি, ল্যাপারোস্কোপি এবং রোবোটিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা.পি বংশী কৃষ্ণ জানাচ্ছেন, এই সমস্যাটি অত্যন্ত পরিচিত এবং বেশিরভাগ পুরুষের জীবনেই অন্তত একবার এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাঁর কথায়, "অ্যালকোহল আদতে একটি ডিপ্রেসেন্ট। এটি আমাদের স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানকে ধীর করে দেয় এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। আর এই দুটি বিষয়ই পুরুষের লিঙ্গোত্থানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কেউ যদি ক্লান্ত বা স্ট্রেসে থাকেন, কিংবা শরীরে জলের ঘাটতি থাকে, তবে পরিমিত মদ্যপানেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর অতিরিক্ত মদ্যপান করলে তো এই ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।"

ইচ্ছে আছে, কিন্তু উপায় নেই!

চিকিৎসকের মতে, শুরুতে দু-এক পেগ মদ খেলে মনে একটা সাময়িক ফুরফুরে ভাব আসতে পারে। মনে হতে পারে আত্মবিশ্বাস যেন ফেটে পড়ছে! কিন্তু শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে দেখলে, অ্যালকোহল টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক আর যৌন উদ্দীপনার সিগন্যাল ঠিক মতো পাঠাতে পারে না। আপনি হয়তো মনে মনে বা আবেগগত দিক থেকে যৌন মিলন করার জন্য প্রবল আগ্রহী, কিন্তু আপনার শরীর কিছুতেই সাড়া দিচ্ছে না।  

Advertisement

সম্পর্কের সমীকরণে ধাক্কা

আর এখানেই শুরু হয় আসল সমস্যা। চরম অন্তরঙ্গ মুহূর্তে এমন ঘটনা ঘটলে তা যেমন লজ্জার, তেমনই হতাশার। যেহেতু পার্টি, সেলিব্রেশন বা রোম্যান্টিক ডেটের সঙ্গে মদ্যপানের একটা সরাসরি যোগ রয়েছে, তাই এমন পরিস্থিতি যে কোনও জুটির জন্যই বেশ অস্বস্তিকর।

ডা. কৃষ্ণের মতে, "একবার এমনটা ঘটলে অনেক পুরুষই মারাত্মক দুশ্চিন্তায় ভোগেন। পরের বার মিলনের আগেও সেই ভয়টা মাথায় কাজ করে, যা সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, অনেক সময় সঙ্গিনী ভাবতে শুরু করেন, হয়তো তাঁর প্রতি আকর্ষণ হারিয়েছেন পুরুষটি। এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে খোলাখুলি কথা না বললে, তা ধীরে ধীরে সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।"

সমাধান কোন পথে?

তবে আশার কথা হল, সাময়িক এই ব্যর্থতা কোনও স্থায়ী ডাক্তারি অসুখ নয়। অতিরিক্ত মদ্যপান, ক্লান্তি বা ডিহাইড্রেশনের কারণেই মূলত এমনটা ঘটে। তাই বলে কি মদ্যপান একেবারেই নৈব নৈব চ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত পানই হল আসল চাবিকাঠি। এক বসায় দু'পেগের বেশি মদ্যপান করলেই এই ঝুঁকি বাড়ে। আর নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করলে স্নায়ু, রক্তনালী এবং হরমোনের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

তাই সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখতে মদের গ্লাসে একটু লাগাম পরাই বুদ্ধিমানের কাজ। মদ্যপানের মাঝে পর্যাপ্ত জল খান, স্বাস্থ্যকর খাবার খান আর সপ্তাহে অন্তত কয়েকটা দিন মদ থেকে শতহস্ত দূরে থাকুন। তবে হ্যাঁ, মদ্যপান না করেও যদি বিছানায় এই সমস্যা নিয়মিত হতে থাকে, তবে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

** প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। মদ্যপান বা কোনও রকম নেশা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।  


 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement