
ব্যস্ত জীবন, মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেস আর অনিয়মিত ডায়েট- এসবের হাত ধরে যে সমস্যাটি এখন ঘরে ঘরে, তা হল চুল পড়া। রোজ সকালে চিরুনিতে গোছা গোছা চুল বা মাথার স্ক্যাল্প ফাঁকা হতে দেখলে বুকের ভিতরটা ছ্যাঁত করে ওঠে অনেকেরই। কিন্তু জানেন কি, চুল আচমকা পড়তে শুরু করে না? বরং ঝরে যাওয়ার অনেক আগেই আমাদের শরীর কিছু আগাম সঙ্কেত দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় থাকতে এই লক্ষণগুলি চিনে নিতে পারলেই টাক পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন, ঠিক কী ভাবে শুরু হয় এই সমস্যা এবং তা রোখার উপায়ই বা কী।
চুল পড়ার প্রথম সঙ্কেত
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাক পড়ার প্রথম ধাপ কিন্তু মুঠো মুঠো চুল ঝরা নয়, বরং চুল পাতলা হয়ে যাওয়া (Hair Thinning)। এই পর্যায়ে চুল হঠাৎ করে ভাঙে না। বরং প্রতিটি চুলের ঘনত্ব বা ব্যাস ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
আপনি যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খেয়াল করেন যে আপনার সিঁথি আগের চেয়ে বেশ চওড়া দেখাচ্ছে, কিংবা চুল বাঁধার সময় পনিটেলটি আগের মতো আর ভারী লাগছে না, তবে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। চুলের স্বাস্থ্য যে ক্রমশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে, এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কেন এমন হয়? কী বলছে বিজ্ঞান?
বিজ্ঞানের পরিভাষায় চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার এই গোটা প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'মিনিয়াচারাইজেশন অফ ফলিকল' (Miniaturization of follicle)। স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'হেলথলাইন'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় স্ক্যাল্পের নীচে থাকা হেয়ার ফলিকল অর্থাৎ যেখান থেকে চুলের জন্ম হয়, তা ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে শুরু করে। ফলিকল সঙ্কুচিত হয়ে গেলে সেখানে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছতে পারে না। এর ফলস্বরূপ, প্রতিটি নতুন হেয়ার সাইকেলে গজানো চুল আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল, পাতলা এবং ছোট হতে থাকে। শেষে এমন একটা সময় আসে, যখন গোড়া আলগা হয়ে চুল পুরোপুরি ঝরে যায় এবং টাক পড়ার সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে।
হাল ছাড়বেন না, রয়েছে ফেরানোর উপায়
চুল পাতলা হতে শুরু করলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া ফলিকলগুলি পুরোপুরি বন্ধ বা 'সিল' হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত সেখান থেকে নতুন এবং ঘন চুল ফিরে পাওয়া একশো শতাংশ সম্ভব। চুল পড়ার মাত্রা মাপার জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত 'নরউড স্কেল' (Norwood Scale) ব্যবহার করে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার চুল পড়ার অবস্থা যদি স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৫-এর মধ্যে থাকে, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে হারানো চুল ফিরে পাওয়া যায়। এই পর্যায়ে ফলিকলগুলি জীবিত থাকে। তাই দেরি না করে দ্রুত কোনও অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্ট বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে মিনোক্সিডিল (Minoxidil), পিআরপি থেরাপি (PRP Therapy) এবং সঠিক পুষ্টিকর ডায়েটের সাহায্যে ঘুমিয়ে থাকা ফলিকলগুলিকে ফের সক্রিয় করে তোলা সম্ভব। কাজেই, সিঁথি চওড়া হতে দেখলে মন খারাপ না করে, আজই চুলের সঠিক যত্ন নিতে শুরু করুন।