
Bathroom bad smell removal tips: বাথরুম পরিষ্কার করেছেন। মেঝে ঝকঝকে। কমোড, বেসিন, ড্রেনের জায়গাও ভাল করে ধুয়ে নিয়েছেন। তবু কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমে হালকা টক বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ফিরে আসছে? তা হলে শুধু মেঝে বা নিকাশি পরিষ্কার করলেই হবে না। একবার ভাল করে দেখুন বাথরুমের ওয়াশ বেসিন বা সিঙ্কের একটি ছোট ছিদ্র।
সিঙ্কের উপরের দিকে, কলের নিচে বা সামনের দেওয়ালের কাছে ছোট একটি ছিদ্র বা ফাঁক দেখা যায়। একে বলা হয় ওভারফ্লো হোল। সাধারণত সিঙ্কে বেশি জল জমে গেলে এই পথ দিয়ে জল নিকাশিতে যাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই ছোট জায়গার ভিতরেই জমতে পারে সাবান, টুথপেস্ট, চুল এবং নানা ধরনের ময়লা।
সেখান থেকেই দুর্গন্ধের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সিঙ্কের এই ছোট ছিদ্রেই ময়লা জমে
আমরা হাত ধুই, দাঁত মাজি, মুখ পরিষ্কার করি বা শেভ করি। সেই সময় সাবান, টুথপেস্ট, তেলতেলে ময়লা, চুল এবং ত্বকের ছোট ছোট কণা জলের সঙ্গে সিঙ্কে চলে যায়।
এর কিছু অংশ নিকাশির পাইপ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিছু ময়লা সিঙ্কের ওভারফ্লো চ্যানেলের ভিতরেও জমতে পারে। বাইরে থেকে জায়গাটি পরিষ্কার দেখালেও ভিতরে ধীরে ধীরে ময়লার আস্তরণ তৈরি হয়।
দীর্ঘ দিন এই ময়লা জমে থাকলে জীবাণু ও ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হতে পারে। তখন সিঙ্কের আশপাশ থেকে অদ্ভুত গন্ধ আসতে পারে। ফলে গোটা বাথরুম পরিষ্কার করার পরেও দুর্গন্ধ পুরোপুরি যায় না।
ক্লিনার ঢাললেও কাজ হচ্ছে না?
অনেকে ভাবেন, নিকাশির মুখে ক্লিনার ঢেলে দিলেই সিঙ্কের সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু সব সময় তা হয় না।
সিঙ্কের ওভারফ্লো হোলের ভিতরের পথটি নিকাশির মুখের মতো সরাসরি নয়। এটি সিঙ্কের ভিতরে আলাদা একটি চ্যানেল হিসাবে থাকে। পরে সেটি নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে নিকাশিতে ঢালা ক্লিনার ওভারফ্লো চ্যানেলের সব জায়গায় পৌঁছবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
তাই বাইরে থেকে সিঙ্ক যতই পরিষ্কার দেখাক, ভিতরে জমে থাকা ময়লা থেকে যেতে পারে।
১০ মিনিটে কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
এর জন্য প্রথমেই দামি কোনও ক্লিনার কেনার প্রয়োজন নেই। একটি সরু, লম্বা ব্রাশ দিয়েই শুরু করতে পারেন।
প্রথমে ব্রাশটি সামান্য গরম জলে ভিজিয়ে নিন। স্ট্র কেলিনিং ব্রাশ বা সরু বোতল পরিষ্কার করার ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বার সেটি আস্তে করে ওভারফ্লো হোলের ভিতরে ঢোকান। জোরে চাপ দেবেন না। হালকা করে ঘুরিয়ে ব্রাশটি বার করে নিন।
এ ভাবে কয়েকবার করুন। ব্রাশে ময়লা বেরিয়ে আসতে পারে। যতক্ষণ না ময়লা কমে আসছে, তত ক্ষণ কয়েক বার পরিষ্কার করতে পারেন।
এর পর চাইলে সামান্য বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। প্রায় দুই চামচ বেকিং সোডা ছিদ্রের ভিতরে দেওয়া যায়। তার পর অল্প সাদা ভিনিগার দেওয়া যেতে পারে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন। ব্লিচের সঙ্গে ভিনিগার বা অ্যামোনিয়া কখনও মেশাবেন না। এতে বিপজ্জনক গ্যাস তৈরি হতে পারে। একসঙ্গে একাধিক রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার না করাই ভাল।
সব শেষে কলের হালকা গরম জল দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে নিন। ফুটন্ত জল ঢালার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত গরম জল সিঙ্ক বা পাইপের ক্ষতি করতে পারে। , ট্র্যাপ বা অন্য কোনও জায়গায় হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্লাম্বারের সাহায্য নেওয়াই ভাল।