
একটা সময়ে হারিয়ে গিয়েছিল মোচা, থোড়, ডুমুর, কোফতা, দোলমার মতো পদগুলি। লোকমুখে প্রচার পেয়ে আবার তা ফিরে এসেছে বাঙালির পাতে। বাঙালি রসনার ইতিহাস ঘাঁটতে শুরু করলে নজরে পড়বে এমন অনেক পদ রয়েছে যার স্বাদ প্রায় বাঙালি ভুলেই গিয়েছে। এমনিতেই বাঙালি জাতি তার নিজস্ব রন্ধনপ্রণালী আর খাদ্যাভ্যাসের গুণের জন্য সারা বিশ্বে সমাদৃত।
বাঙালির রসনা প্রেমের প্রমাণ পাওয়া যায় সাহিত্যেও। বিজয়গুপ্তের পদ্মপুরাণ বা মনসামঙ্গলের মতো মঙ্গলকাব্যগুলিতেও বাঙালি ভোজ নিয়ে নানা চর্চার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে জানেন তো এমন কিছু পদ রয়েছে যা কালের নিয়মে একেবারেই হারিয়ে গিয়েছে। যেমন ধরুন নালতে পাতার চচ্চড়ি, সজনে ফুলের ঘণ্ট, তিলেপটেশ্বরী কিংবা পিটুলি বাটা দিয়ে মাছের শুক্তোর মতো পদের নাম অনেকেই জানেই না। আজ তেমনই এক পদ শিখে নেব, যার নাম কাসুন্দি ভেটকি।
উপকরণ
ভেটকি -(৭৫০ গ্রাম -১ কিলো) আদাবাটা-৪ চামচ,পেঁয়াজ-৫/৬ টি,সর্ষে-১ চামচ,শুকনোলঙ্কা-৩/৪ টি,টক দই-১০০ গ্রাম কাগজি লেবু-১ টা,গোলমরিচগুঁড়ো -আধ চামচ রসুন-৩/৪ কোয়া,কাসুন্দি-৩০ গ্রাম,ঘি-১ টেবিল চামচ ,কলাপাতা ৪/৫ টুকরো।
প্রণালী
আদা,পেঁয়াজ,রসুন,সর্ষে ও শুকনোলঙ্কা মিহি করে বেটে একটা পাত্রে রাখুন।এতে গোলমরিচ গুঁড়ো,নুন,লেবুর রস,কাসুন্দি,দই,ঘি মিশিয়ে একটা পেস্ট করে সেটা মাছের গায়ে ভালো করে মাখিয়ে দেড় ঘন্টা রেখে দিন।এর পর এই মাছ কলাপাতায় ভালো করে জড়িয়ে সুতো দিয়ে বেঁধে নিন। এবার ফ্রাই প্যানে সিমে বসান/১০ মিনিট পর লক্ষ্য রাখুন কলাপাতার ধার পুড়তে শুরু করছে কিনা। তারপর উল্টে দিন।আবার ১০ মিনিট রেখে কলাপাতায় কাঁচা রং এলে বুঝতে হবে মাছ সেদ্ধ হয়ে গেছে। নামিয়ে পরিবেশন করুন।