
আবহাওয়া পাল্টাচ্ছে। শীত এসে গিয়েছে শহর কলকাতায়। এ সময় সর্দি-কাশি, জ্বরও লেগেই থাকে ঠান্ডা লেগে। আগেকার দিনে মা-দিদারা এই সময়ে বাড়িতেই তুলসি, বাসক, পিপুলের মতো আয়ুর্বেদিক পথ্যের সাহায্য নিতেন। আর থাকত চ্যবনপ্রাশ। জড়ি-বুটি সমৃদ্ধ চ্যবনপ্রাশ ভীষণ কাজের। সর্দি-কাশি, সংক্রমণ থেকে শিশু বা বয়স্কদের রক্ষা করতে অব্যর্থ। সুস্বাস্থ্য গড়ে তুলতে যুগ যুগ ধরে এর ব্যবহার চলে আসছে।
চ্যবনপ্রাশ ভীষণ উপকারি
শীতের শুরুতে শুকনো আবহাওয়া ও সেই সাথে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত শিশু থেকে বয়স্ক সকলকেই কাবু করে ফেলে। সর্দিকাশি, ঠাণ্ডালাগা একপ্রকার লেগেই থাকে। তাই ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মোক্ষম দাওয়াই চ্যবনপ্রাশ। চ্যবনপ্রাশ কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণকে দূরে রাখে। চ্যবনপ্রাশে ৫০ রকমের ভেষজ ঔষধি এবং নির্যাস থাকে। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এর উপকারিতার তুলনা হয় না।
প্রতিদিনি কেন চ্যবনপ্রাশ খাওয়া দরকার
প্রাচীন উপাদান ও অনুপাত মেনে তৈরি চ্যবনপ্রাশ শরীরের জন্য রক্ষাকবচ তৈরি করতে পারে। এর হাজার উপকারিতা। আমলকি, লবঙ্গ, শতাবরী, বিদরিকাণ্ড, হরতুকি, কন্টকরি, কাকদাশিঙ্গি, ভূম্যআমলকি, বাসক, পুষ্করমূল, শালপর্ণীর মতো বহু উপকারী ভেষজের সাহায্যে তৈরি আয়ুর্বেদিক এই মিশ্রণ শুধুমাত্র যে সর্দি-কাশি-জ্বর দূর করে তা নয়, বদহজম, পিত্তদোষ, প্রস্রাবের প্রদাহ ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যাধিও দূর করতে সক্ষম।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক এর কাজগুলি
দুধ না জল? কী দিয়ে খাবেন চ্যবনপ্রাশ
আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষই নিশ্চিন্তে এই চ্যবনপ্রাশ খেতে পারে। নানা ভাবে চ্যবনপ্রাশ খাওয়া যায়৷ তবে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খাওয়ার উপযুক্ত সময় সকালবেলা। কোনও সমস্যা না থাকলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১০ গ্রাম বা ১ চামচ চ্যবনপ্রাশ খাওয়া যায়৷ এমনি খেতে পারেন বা গরম দুধ অথবা জলের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন। অনেকে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে চ্যবনপ্রাশ খান৷ তবে যাঁরা হাঁপানি বা অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের রোগের সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের এটি হালকা গরম জলের সাথে খাওয়া দরকার। এবং এই সময় দুধ, দই এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সদ্যোজাত শিশু ছাড়া যে কোনও বয়সি মানুষ বছরভর চ্যবনপ্রাশ খেতে পারবেন৷