
হোটেলের ঘরে ঢুকলেই পরিপাটি বিছানার চাদর থেকে শুরু করে বাথরুমের তোয়ালে— সব কিছুর মধ্যেই একটা আলাদা আরামের ছোঁয়া থাকে। বিশেষ করে হোটেলের তোয়ালেগুলো হয় ভীষণ নরম আর ফুরফুরে। বাড়িতেও আমরা অনেকেই বেশ দামি তোয়ালে কিনি। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই তার জৌলুস হারিয়ে যায়। সাধের তোয়ালে খসখসে, ভারী ও রংচটা হয়ে পড়ে।
অনেকেরই ধারণা, হোটেলের তোয়ালে বছরের পর বছর নতুনের মতো নরম আর ধবধবে রাখতে হয়তো প্রচুর দামি কোনও রাসায়নিক বা প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হয়। আদতে কিন্তু তা নয়। হোটেলের লন্ড্রিতে তোয়ালে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলা হয়। সেই টোটকাগুলো জানা থাকলে, আপনার বাড়ির তোয়ালেও হোটেলের মতোই নরম থাকবে।
হোটেলের তোয়ালে পরিষ্কার রাখার ৭টি গোপন কায়দা
১. তোয়ালে কাচতে হয় আলাদা ভাবে
তোয়ালে কখনওই অন্য জামাকাপড়ের সঙ্গে কাচা উচিত নয়। হোটেলে সব সময় তোয়ালে আলাদা ভাবেই ধোয়া হয়। অন্য পোশাকের সঙ্গে একসঙ্গে কাচলে ঘর্ষণের ফলে তোয়ালের সুতোর বা কটনের মান খুব তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায়।
২. ওয়াশিং মেশিনে ঠাসাঠাসি নয়
ওয়াশিং মেশিনে একসঙ্গে একগাদা তোয়ালে ঠুসে দেবেন না। এতে জল এবং ডিটারজেন্ট ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। সাবান তোয়ালের সুতোতেই আটকে থাকে, ফলে তোয়ালে খসখসে হয়ে তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। মেশিনে সব সময় কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখা জরুরি, যাতে তোয়ালেগুলো সহজে ঘুরতে পারে এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়।
৩. হালকা গরম জলের সঠিক ব্যবহার
তোয়ালেতে জমে থাকা ময়লা, শরীরের তেল ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে হালকা গরম জল খুব কার্যকরী। তবে খেয়াল রাখতে হবে জল যেন অতিরিক্ত গরম না হয়। বেশি গরম জল সুতোকে দুর্বল করে দেয়।
৪. ফ্যাব্রিক সফটনারের পরিমিত ব্যবহার
অনেকেই ভাবেন, বেশি করে ফ্যাব্রিক সফটনার দিলে তোয়ালে বোধহয় বেশি নরম হবে। এই ধারণা একেবারেই ভুল। অতিরিক্ত সফটনার তোয়ালের ওপর একটি মোমের মতো আস্তরণ তৈরি করে দেয়, যার ফলে তোয়ালের জল শোষণের ক্ষমতা কমে যায়। হোটেলে সফটনারের বদলে তোয়ালে খুব ভালো করে ধোয়া (Rinsing) এবং সঠিক পদ্ধতিতে শুকোনোর দিকে বেশি জোর দেওয়া হয়।
৫. ড্রায়ার বলের ব্যবহার
অনেক হোটেলে তোয়ালে শুকোনোর সময় মেশিনে ‘ড্রায়ার বল’ (Dryer balls) ব্যবহার করা হয়। এটি তোয়ালেগুলোকে একে অপরের গায়ে আটকে থাকতে দেয় না এবং গরম হাওয়া সমানভাবে ছড়াতে সাহায্য করে। এর ফলেই তোয়ালে একদম ফুরফুরে বা ‘ফ্লাফি’ থাকে।
৬. সাবান বা ময়লা জমতে না দেওয়া
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে তোয়ালেতে সাবানের অবশিষ্টাংশ, শরীরের তেল এবং জলের খনিজ পদার্থ (হার্ড ওয়াটার মিনারেলস) জমতে থাকে। এর ফলে তোয়ালে ভারী ও রুক্ষ হয়ে যায়। এই সমস্যা এড়াতে হোটেলে তোয়ালে ধোয়ার সময় ‘এক্সট্রা রিন্স সাইকেল’ (অতিরিক্ত বার পরিষ্কার জলে ধোয়া) ব্যবহার করা হয়, যাতে কোনও সাবান জমে না থাকে।
৭. সঠিক পদ্ধতিতে শুকোনো
তোয়ালে দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকলে তা থেকে ভ্যাপসা দুর্গন্ধ বেরোতে পারে। আবার কড়া রোদে বা অতিরিক্ত গরমে শুকোলে তোয়ালের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। তাই তোয়ালে পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, তবে ‘ওভারহিটিং’ বা অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে।
বাড়িতে বসে হোটেলের মতো নরম তোয়ালে পাওয়ার সহজ উপায়
আপনার বাড়ির তোয়ালেও যদি দীর্ঘদিন নরম আর উজ্জ্বল রাখতে চান, তবে এই ছোট পরিবর্তনগুলি এনে দেখতে পারেন:
আলাদা কাচুন: তোয়ালে সব সময় সাধারণ পোশাকের থেকে আলাদা করে কাচুন।
কম ডিটারজেন্ট: খুব সামান্য পরিমাণ ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।
সফটনার এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত ফ্যাব্রিক সফটনার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সাদা ভিনিগারের ম্যাজিক: তোয়ালে কাচার সময় ধোয়ার ধাপে (Rinse cycle) মাঝে মাঝে আধ কাপ সাদা ভিনিগার (White Vinegar) ব্যবহার করতে পারেন। ভিনিগার তোয়ালেতে জমে থাকা সাবান দূর করতে সাহায্য করে এবং শুকোনোর পর এর কোনও গন্ধও থাকে না।
বেকিং সোডার ব্যবহার: পুরনো তোয়ালের ফ্যাকাশে ভাব ও দুর্গন্ধ দূর করতে জলে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে তোয়ালে কাচতে পারেন। এতে তোয়ালের জেল্লা ফিরে আসবে।