
বর্ষাকাল মানেই একদিকে যেমন স্বস্তির বৃষ্টি, তেমনই অন্যদিকে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার জেরে গৃহস্থালির হাজারো ঝক্কি। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা এতই বেশি থাকে যে, শুধু বিস্কুট বা চানাচুর নয়, চরম ভোগান্তিতে ফেলে দেশলাইও। বারবার ঘষলেও দেশলাইয়ের কাঠি কিছুতেই জ্বলতে চায় না।
বারুদ নরম হয়ে যাওয়ার কারণে শেষমেশ বিরক্ত হয়ে গোটা দেশলাই বাক্সটিকেই ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে হয়। কিন্তু জানেন কি, আপনার রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত কিছু জিনিস ব্যবহার করেই এই সমস্যার একেবারে সহজ সমাধান করা সম্ভব?
জেনে নিন বর্ষায় দেশলাই বাক্স শুকনো রাখার কিছু মোক্ষম ঘরোয়া টোটকা:
লবণের কেরামতি
দেশলাই বাক্সটি দীর্ঘক্ষণ শুকনো রাখতে এর মধ্যে এক চিমটে সাধারণ লবণ ফেলে দিন। লবণ খুব দ্রুত বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে। ফলে দেশলাইয়ের কাঠিগুলো আর স্যাঁতসেঁতে হবে না এবং দরকারে এক ঘষাতেই দপ করে জ্বলে উঠবে। তবে খেয়াল রাখবেন, লবণের পরিমাণ যেন খুব সামান্যই হয়।
চালের ম্যাজিক
নুন ব্যবহার করতে না চাইলে, দেশলাই বাক্সে কয়েক দানা কাঁচা চালও ফেলে রাখতে পারেন। দামি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বা মশলাপাতি আর্দ্রতার হাত থেকে বাঁচাতে অনেকেই চাল ব্যবহার করেন। দেশলাইয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় না। চাল বাতাসের জলীয় বাষ্প শুষে নিয়ে দেশলাই কাঠি একদম খটখটে রাখে।
হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্য নিন
যদি দেশলাই ইতিমধ্যে মিইয়ে গিয়ে থাকে, তবে হেয়ার ড্রায়ার দিয়েও তা অনায়াসে শুকিয়ে নিতে পারেন। একটি স্টিলের মগ বা একটু গভীর পাত্রে কাঠিগুলো রেখে উপর থেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হেয়ার ড্রায়ারের গরম হাওয়া দিন। এতে কাঠির ভেতরের আর্দ্রতা দূর হবে, আর গভীর পাত্র ব্যবহারের ফলে হাওয়ায় কাঠিগুলো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়বে না।
গরম তাওয়া বা চাটুর ব্যবহার
দেশলাই কাঠির স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটাতে গরম তাওয়াও ব্যবহার করতে পারেন। গ্যাসের আঁচ একদম কমিয়ে চাটু হালকা গরম করে নিন। এবার তার উপর কাঠিগুলো ছড়িয়ে দিয়ে কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করুন। দেখবেন বারুদ শুকিয়ে কাঠি আগের মতোই শক্ত হয়ে গেছে।
মাইক্রোওয়েভ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ
অনেকেই দ্রুত দেশলাই শুকোতে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতায় বা বেশি তাপমাত্রায় কাঠিগুলো ভেতরেই জ্বলে উঠে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকে। তাই এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
সামান্য এই ঘরোয়া কৌশলগুলো জানা থাকলে বর্ষার স্যাঁতসেঁতে দিনেও দেশলাই নিয়ে আর নাকাল হতে হবে না।