
লাল লঙ্কার গুড়ো অনেকই রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। খাবারে ঝাল স্বাদ আনতে সাহায্য করে এই মশলা। তবে আজকাল, বেশি মুনাফা লাভের জন্য লাল লঙ্কার গুড়োতে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
অনেক বিক্রেতা লাল লঙ্কার গুড়োর ওজন বাড়াতে এবং এর রঙ আরও উজ্জ্বল দেখানোর জন্য এতে কৃত্রিম রং, ইটের গুঁড়ো, খড়িমাটির গুঁড়ো বা অন্যান্য নিম্নমানের উপাদান মেশান। ভেজাল লাল লঙ্কা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। ভেজাল লাল লঙ্কার গুঁড়ো খেলে পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি এবং হজমের সমস্যা হতে পারে। এটি লিভার এবং অস্ত্রেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই, আমরা আপনাকে বলছি কীভাবে আসল এবং নকল লাল লঙ্কার গুঁড়ো চিনবেন।
১.লাল লঙ্কার গুঁড়ো ভেজালযুক্ত নাকি খাটি, তা জল দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। এক গ্লাস জলে এক চা চামচ লাল লঙ্কার গুঁড়ো দিন। যদি লঙ্কার গুঁড়ো টিধীরে ধীরে উপরে ভেসে ওঠে এবং জল সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় লাল হয়ে না যায়, তবে এটি সম্ভবত খাঁটি। আর যদি লাল লঙ্কার গুঁড়ো দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেইজল থেকে উজ্জ্বল লাল রঙ বের হতে শুরু করে বা ভারী কণা নিচে খিতিয়ে পড়ে, তবে এটি সম্ভবত ভেজাল যুক্ত।
২. লাল মরিচ ভেজালযুক্ত নাকি খাঁটি, তা হাতের তালুতে ঘষে আপনি বুঝতে পারবেন। অল্প পরিমাণে লালমরিচ নিয়ে আপনার হাতের তালুতে ঘষুন। যদি আপনার তালুতে খুব উজ্জ্বল লাল রঙ লেগে থাকে, তবে এটি কৃত্রিম রঙের ইঙ্গিত দেয়। খাঁটি লালমরিচের রঙ হালকা ও স্বাভাবিক হয়, অন্যদিকে কৃত্রিম রঙ করা মরিচ স্বতে বেশি দাগ ফেলতে পারে।
৩. লাল লঙ্কার গুঁড়ো ভেজাল না খাঁটি তা তেল দিয়ে যাচাই করুন। প্রথমে একটি পাত্রে তেল ঢেলে তাতে লাল লঙ্কার গুঁড়ো দিন। যদি তেল সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় লাল হয়ে যায়, তবে এটি ভেজাল। আপনার জানা উচিত যে, খাঁটি লঙ্কার গুড়োর রঙ ধীরে ধীরে বদলায় এবং এর গঠন আরও স্বাভাবিক হয়।
৪. আয়োডিন দ্রবণ দিয়ে শনাক্ত করতে পারেন। আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন যে, বাজারে স্টার্চ পাউডারের সঙ্গে মেশানো লাল লঙ্কা গুঁড়ো বিক্রি হচ্ছে। এটি পরীক্ষা করার জন্য, এক চা চামচ লাল লঙ্কা গুঁড়োতে কয়েক ফোটা আয়োডিন দ্রবণ যোগ করুন। যদি লাল লঙ্কা গুঁড়োটি নীল হয়ে যায়, তবে সম্ভবত এতে স্টার্চ মেশালো আছে।