
রান্নাঘরে নিয়মিত রান্না করলে চিমনিতে তেল আর ধোঁয়া জমবেই। বিশেষ করে তেলেভাজা, মশলা দেওয়া তরকারি বা মাছ-মাংস রান্নার সময় সেই তেল চিমনির ফিল্টারে গিয়ে আটকে যায়। প্রথমে সামান্য ময়লা মনে হলেও দিনের পর দিন পরিষ্কার না করলে সেটিই শক্ত গ্রিজের পুরু আস্তরণ তৈরি করে। চিমনি সাফ করার লোক ডাকলে তিনি ৪০০-৫০০ টাকা মিনিমাম নেবেন।
এর জন্য সব সময় দামি ক্লিনার কিনতে হবে না। বাড়িতে থাকা বেকিং সোডা, ডিশওয়াশ লিকুইড এবং গরম জল দিয়েই ফিল্টারের জমে থাকা অনেকটা তেল-ময়লা পরিষ্কার করা যায়। তবে পরিষ্কারের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা এবং বৈদ্যুতিক অংশে জল না লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
চিমনি পরিষ্কার করতে কী কী লাগবে?
প্রথমে ৩-৪ টেবিল চামচ বেকিং সোডা নিন। সঙ্গে রাখুন ২ টেবিল চামচ ডিশওয়াশ লিকুইড। লাগবে একটি বড় টব বা বালতি এবং গরম জল। খুব বেশি ময়লা হলে পুরনো নরম ব্রাশ বা স্ক্রাবার ব্যবহার করতে পারেন।
চিমনির বাইরের অংশ পরিষ্কারের জন্য সামান্য ভিনিগারও ব্যবহার করা যায়। তবে ভিনিগার এবং বেকিং সোডা একসঙ্গে মিশিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। দু’টির মিশ্রণে ফেনা হলেও পরিষ্কারের ক্ষমতা বাড়ে না।
প্রথমে প্লাগ খুলে দিন
চিমনি পরিষ্কার করার আগে সেটির সুইচ বন্ধ করুন। সম্ভব হলে প্লাগ খুলে দিন। বৈদ্যুতিক অংশে কোনও ভাবেই জল বা পরিষ্কারের তরল ঢুকতে দেবেন না।
এর পর চিমনির ফিল্টার খুলুন। অনেক মডেলে ফিল্টার আলাদা করে খুলে নেওয়া যায়। নিজের চিমনির ম্যানুয়ালে দেওয়া নিয়ম মেনে ফিল্টার খুলুন।
গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন
একটি বড় টব বা বালতিতে গরম জল নিন। জলে বেকিং সোডা এবং ডিশওয়াশ লিকুইড মিশিয়ে দিন। এ বার ফিল্টারটি সেই জলে ডুবিয়ে রাখুন।
প্রায় ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে জমে থাকা তেল ও ময়লা অনেকটাই নরম হতে পারে। খুব বেশি ময়লা হলে আরও কিছুটা সময় ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।
এর পর পুরনো নরম ব্রাশ বা উপযুক্ত স্ক্রাবার দিয়ে ফিল্টারটি পরিষ্কার করুন। খুব জোরে ঘষবেন না। এতে ফিল্টারের সূক্ষ্ম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরিষ্কার হয়ে গেলে ফিল্টারটি পরিষ্কার জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। তার পর সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।
চিমনির বাইরের অংশ কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
চিমনির স্টিল বা বাইরের অংশে তেল জমে গেলে ডিশওয়াশ লিকুইড সামান্য জলের সঙ্গে মিশিয়ে নরম কাপড়ে লাগাতে পারেন। ময়লা জায়গায় আলতো করে মুছে নিন।
ভিনিগারও কিছু ক্ষেত্রে স্টিলের বাইরের অংশের দাগ পরিষ্কারে ব্যবহার করা যায়। তবে সেটি বৈদ্যুতিক অংশ, মোটর, সুইচ বা ফিল্টারের ভিতরের অংশে ব্যবহার করবেন না। পরিষ্কারের পর শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
কস্টিক সোডা ব্যবহার করবেন?
অনেক ঘরোয়া পরিষ্কারের টোটকায় কস্টিক সোডা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এটি খুব শক্তিশালী রাসায়নিক। ত্বক ও চোখে লাগলে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। তাই বাড়িতে চিমনি পরিষ্কার করার জন্য এটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
বিশেষ করে কস্টিক সোডার সঙ্গে ভিনিগার বা অন্য কোনও ক্লিনার মেশাবেন না। চিমনির ফিল্টারে বছরের পর বছর ধরে শক্ত ময়লা জমে থাকলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে পরিষ্কার করাই ভাল। প্রয়োজনে পেশাদারের সাহায্য নিন।
সব শেষে ফিল্টার পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে সেটি আবার চিমনিতে লাগিয়ে দিন। নিয়মিত পরিষ্কার করলে ময়লা খুব বেশি জমে শক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না। ফলে পরের বার পরিষ্কার করাও অনেক সহজ হবে।