
হেঁশেলের যে অংশটি সারা দিন ধরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তা হল কিচেন সিঙ্ক। বাসন মাজা থেকে শুরু করে আনাজ পাতি ধোয়া বা রান্নার নানা কাজে বারবার সিঙ্ক ব্যবহার করা হয়। আর এর ফলেই সেখানে তেল, মশলা, সাবান এবং ময়লা জমতে থাকে। ধীরে ধীরে সিঙ্কের গায়ে বসে যায় জেদি দাগ, জলের কালচে ছোপ এবং আঠালো তেলের আস্তরণ, যা পরিষ্কার করা বেশ ঝক্কির কাজ।
অনেক সময় জোর কদমে ঘষাঘষি করার পরেও এই আঠালো ময়লা উঠতে চায় না। কিন্তু কেমন হয়, যদি কেবল একটি মাত্র ট্যাবলেট ফেলেই সিঙ্কটিকে একেবারে নতুনের মতো ঝকঝকে করে তোলা যায়? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! কেবল একটি ‘ডিশওয়াশার ট্যাবলেট’ আপনার এই মুশকিল আসান করতে পারে। সিঙ্ক পরিষ্কার করার এই টোটকাটি সম্প্রতি নেটমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। রাতে সিঙ্কের জলে একটি ট্যাবলেট ফেলে রাখলেই জমে থাকা দাগ-ছোপ আলগা হতে শুরু করে এবং সকালে সিঙ্কটি আয়নার মতো চকচক করে। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হল, এর জন্য আলাদা করে কসরত করার বা ঘষাঘষির প্রয়োজনই হয় না।
কীভাবে কাজ করে ডিশওয়াশার ট্যাবলেট?
ডিশওয়াশার ট্যাবলেটে এমন কিছু ক্লিনিং এজেন্ট বা পরিষ্কার করার উপাদান থাকে, যা জমে থাকা তেল-চর্বি, সাবানের দাগ এবং ময়লা দ্রুত আলগা করতে সাহায্য করে। এই কারণেই এটি কেবল বাসনপত্রের জন্যই নয়, সিঙ্ক পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কার্যকর একটি বিকল্প।
সিঙ্ক পরিষ্কার করার সহজ উপায়
সিঙ্ক পরিষ্কার করার আগে সেখান থেকে সমস্ত বাসনপত্র এবং অন্যান্য জিনিস সরিয়ে ফেলুন।
এর পর ড্রেন বা জল যাওয়ার পথটি বন্ধ করে সিঙ্কটি গরম জলে ভরিয়ে নিন।
এ বার ওই গরম জলে একটি ডিশওয়াশার ট্যাবলেট ফেলে দিন এবং সেটিকে ভালভাবে মিশতে দিন।
এই অবস্থায় জলটি অন্তত ২ ঘণ্টা বা সারা রাতের জন্য সিঙ্কে রেখে দিন।
সকালে সিঙ্কের জল বের করে দিয়ে একটি পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে সিঙ্কটি মুছে নিন।
শেষে পরিষ্কার জল দিয়ে পুরো সিঙ্কটি আর একবার ধুয়ে ফেলুন।
জেদি দাগ তুলতে কী করবেন?
সিঙ্কে যদি পুরনো বা বসে যাওয়া জেদি দাগ থাকে, তবে ট্যাবলেটটিকে জলে সামান্য গলিয়ে নিন। এর পর হাতে গ্লাভস পরে ওই ট্যাবলেটটি দিয়েই দাগের জায়গাগুলোতে হালকা হাতে ঘষুন। কয়েক ঘণ্টা পর সিঙ্কটি ধুয়ে ফেললেই দেখবেন জেদি ময়লা একেবারে গায়েব।
যে বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি
ডিশওয়াশার ট্যাবলেট দিয়ে পরিষ্কার করার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন:
পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরবেন, কারণ ট্যাবলেটে থাকা রাসায়নিক উপাদান ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
পোর্সেলিন বা সেরামিকের মতো সংবেদনশীল পৃষ্ঠে এই টোটকা ব্যবহার না করাই ভালো।
চেষ্টা করুন পাউডার-ভিত্তিক অথবা প্লাস্টিক-ফ্রি ট্যাবলেট ব্যবহার করতে, যাতে সিঙ্কের পাইপ জ্যাম হওয়ার বা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
দীর্ঘ দিন সিঙ্ক পরিষ্কার রাখার টোটকা
কিচেন সিঙ্ক দীর্ঘ দিন পরিষ্কার এবং চকচকে রাখতে চাইলে নিয়মিত কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলা জরুরি:
সারা দিনে যত বার সিঙ্ক ব্যবহার করবেন, কাজের শেষে তত বারই পরিষ্কার জল দিয়ে সেটি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।
অপরিষ্কার ও এঁটো বাসন দীর্ঘক্ষণ সিঙ্কে ফেলে রাখবেন না।
সিঙ্ক স্ট্রেনার (ছাঁকনি) ব্যবহার করুন এবং ময়লা জমলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
সিঙ্ক পরিষ্কার করার জন্য শক্ত বা খসখসে স্ক্রাবারের বদলে নরম সুতির কাপড় বা স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। এতে সিঙ্কের গায়ে আঁচড় লাগবে না।