
গ্রীষ্মকাল শুধু তীব্র দাবদাহ নিয়ে আসে না। এই সময় আরশোলা ও পিঁপড়ের উপদ্রবও বাড়ে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, আর্দ্রতা ও খাদ্যের সন্ধানে এই পোকামাকড় ফাটল বা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে এবং রান্নাঘর ও খাবার টেবিলে হানা দেয়। পিঁপড়েরা খাবারের খোঁজে ছুটে আসে।
অন্যদিকে আরশোলা নোংরা ছড়ায় এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। আপনি যদি পোকামাকড় দমনের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করতে না চান, তবে আপনার রান্নাঘরেই এমন কিছু উপকরণ রয়েছে যা এদের নির্মূল করতে আপনাকে সহায়তা করতে পারে।
পোকামাকড় তাড়ানোর উপায়
পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য বাজারে অনেক রাসায়নিক পদার্থ এবং স্প্রে পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো ব্যয়বহুল এবং প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই প্রতিকারগুলো আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
বেকিং সোডা ও চিনির ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর: সমপরিমাণ বেকিং সোডা এবং গুঁড়ো চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। আরশোলার উপদ্রব রয়েছে এমন জায়গায় চারপাশে এই মিশ্রণটি ছড়িয়ে দিন। চিনি এদের আকৃষ্ট করবে, আর বেকিং সোডা এদের দূরে সরিয়ে দেবে।
সাদা ভিনেগারও বেশ সহায়ক: সমপরিমাণ জল ও ভিনেগার (১:১ অনুপাতে) মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করুন এবং পিঁপড়েদের চলাচলের পথে ও ঘরের কোণে এটি স্প্রে করুন। এর তীব্র গন্ধ পিঁপড়কে বিভ্রান্ত করবে, ফলে তারা আর ফিরে আসবে না।
বোরিক অ্যাসিড ও ময়দার মিশ্রণ দারুণ কাজ দেয়: বোরিক অ্যাসিড ও চিনির সঙ্গে সামান্য ময়দা মিশিয়ে ছোট ছোট বল বা গুলি তৈরি করুন। এগুলো সিঙ্কের নিচে এবং আলমারির পেছনে রেখে দিন। আরশোলা তাড়ানোর এটি একটি নিশ্চিত উপায়।
তেজপাতা ব্যবহার করুন: আরশোলা তেজপাতার গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। তেজপাতা গুঁড়ো করে ঘরের কোণগুলোতে ছড়িয়ে দিন; এতে আরশোলা দ্রুত পালাবে।
হলুদ ও দারুচিনি ব্যবহার করুন: পিঁপড়ের উপদ্রব রয়েছে এমন জায়গাগুলোর চারপাশে হলুদ বা দারুচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এদের কড়া বা তীব্র গন্ধ পিঁপড়ের ঘরের বাইরে রাখতে সহায়তা করে।