
গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহের মাঝেই বাড়ে সাপের উপদ্রব। এই সময়টি মূলত সরীসৃপদের প্রজননের ঋতু। তাই ডিম পাড়ার জন্য নিরাপদ ও স্যাঁতসেঁতে আশ্রয়ের খোঁজে আকছার লোকালয়ে হানা দেয় স্ত্রী সাপ। বিজ্ঞানীদের মতে, সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে সাপকে মূলত দু'টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়— যারা ডিম পাড়ে (Oviparous) এবং যারা সরাসরি সন্তান প্রসব করে (Viviparous ও Ovoviviparous)। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ সাপই ডিম পাড়ে। আর সেই ডিম পাড়ার জায়গা হিসেবে অনেক সময়ই তারা বেছে নেয় আমাদের বাড়ির বাগান, গাছের টব, ভাঁড়ার ঘর বা অব্যবহৃত আবর্জনার স্তূপ।
আচমকা এমন ডিম চোখে পড়লে অনেকেই না বুঝে সেগুলিকে পাখি বা মুরগির ডিম বলে মনে করেন। আর এই ছোট্ট ভুলেই ঘনাতে পারে ঘোরতর বিপদ। তাই সুরক্ষার খাতিরে সাপের ডিম চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সময় থাকতে সতর্ক হওয়া যায়। কী ভাবে বুঝবেন এই ডিম সাপের কিনা? রইল সহজ ৩ উপায়।
খোলসের প্রকৃতি বা টেক্সচার
সাপের ডিম চেনার সবচেয়ে প্রাথমিক ও সহজ উপায় হল ডিমের বাইরের আবরণ বা খোলস পরীক্ষা করা। সাধারণত পাখি বা মুরগির ডিমের খোসা ক্যালসিয়াম দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা বেশ শক্ত প্রকৃতির হয়, হাত থেকে পড়লেই সহজে ভেঙে যায়। কিন্তু সাপের ডিমের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। এদের ডিমের খোসা চামড়া বা রবারের মতো কিছুটা নরম ও নমনীয় হয়। আঙুল দিয়ে সামান্য চাপ দিলে তা পাখির ডিমের মতো ফেটে যায় না, বরং কিছুটা চুপসে যায়।
আকার এবং গড়ন
সাপের ডিম কিনা, তা বোঝার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল এর আকৃতি। সাপের ডিম কখনোই নিখুঁত গোলাকার বা সাধারণ ডিম্বাকার হয় না। এগুলি গড়নে কিছুটা লম্বাটে ধরনের হয়। দেখতে অনেকটা ওষুধের ক্যাপসুল বা বড় সাইজের কাজুবাদামের মতো। এর আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, সাপের ডিম সাধারণত আলাদা থাকে না, বরং একে অপরের গায়ে আঠার মতো লেগে থাকে। স্ত্রী সাপের শরীর থেকে নির্গত এক বিশেষ আঠালো তরলের কারণেই ডিমগুলি এমন গুচ্ছাকারে থাকে।
স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকার জায়গা
ডিম পাওয়ার স্থানটিও এক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাখিরা সাধারণত গাছের ডালে বা খোলা জায়গায় বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। কিন্তু সাপ সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ডিমগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে অন্ধকার এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গাকেই আদর্শ বলে মনে করে। তাই বাগানের আলগা মাটির নীচে, শুকনো পাতার স্তূপে, পচে যাওয়া কাঠের ফাটলে কিংবা বাড়ির অন্ধকার বেসমেন্টে এই ধরনের ডিমের গুচ্ছ দেখতে পেলে সাবধান হওয়া জরুরি। বুঝতে হবে, আশেপাশে কোথাও লুকিয়ে রয়েছে সাপ!