
Natural AC Tips: জুন মাসের কাঠফাটা রোদ্দুর আর ভ্যাপসা গরমে যখন চারদিকের জনজীবন ওষ্ঠাগত তখন ঘর ঠান্ডা রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই এই তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে ২৪ ঘণ্টা এসি চালিয়ে রাখেন যার ফলে মাসকাবারি বিদ্যুতের বিল দেখে কপালে চোখ ওঠার জোগাড় হয়। আবার অনেকের বাড়িতে এসি কেনার সামর্থ্য বা পরিকাঠামো থাকে না। তবে চিন্তা করার কোনও কারণ নেই কারণ এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ছাড়াই আপনার ঘরকে একদম পাহাড়ি অঞ্চলের মতো শীতল ও আরামদায়ক করে তোলা সম্ভব। কিছু সহজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সাধারণ ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললেই এই তীব্র গরমেও ঘর থাকবে ঠান্ডা আর পকেটও থাকবে সুরক্ষিত।
ঘরের পর্দা ও জানালার সঠিক ব্যবহার এবং টেবিল ফ্যানের ম্যাজিক ট্রিক
গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা রাখার প্রথম এবং প্রধান নিয়ম হলো দুপুরের তপ্ত রোদকে ঘরের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘরের যেদিকের জানালায় সরাসরি রোদ আসে সেগুলি ভারী পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। হালকা রঙের সুতির বা লিনেন পর্দা ব্যবহার করলে ঘর অনেক বেশি বাতাস চলাচলের উপযোগী থাকে এবং বাইরের তাপ শোষিত হয় না। সূর্যাস্তের পর যখন বাইরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে তখন ঘরের সমস্ত জানালা খুলে দিন যাতে শীতল হাওয়া ঘরের ভেতরের জমে থাকা গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দিতে পারে।
এর পাশাপাশি একটি দুর্দান্ত ঘরোয়া কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ টেবিল ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যানকে এসির মতো কার্যকর করে তোলা যায়। একটি বড় পাত্রে প্রচুর পরিমাণে বরফের টুকরো বা বরফ জল নিয়ে সেটি টেবিল ফ্যানের ঠিক সামনে বসিয়ে দিন। ফ্যানটি চালু করলেই বরফের সংস্পর্শে আসা শীতল হাওয়া সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়বে এবং নিমেষের মধ্যে ঘরের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নেমে যাবে যা আপনাকে এসির মতোই আরাম দেবে।
ইনডোর প্ল্যান্টের ম্যাজিক ঘরের আলোর পরিবর্তন এবং সুতির চাদরের ব্যবহার
ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে শীতল রাখতে ঘরের ভেতরে কিছু বিশেষ গাছ বা ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা অত্যন্ত জরুরি। মানি প্ল্যান্ট স্নেক প্ল্যান্ট অ্যালোভেরা বা ফার্নের মতো গাছগুলি ঘরের বাতাসকে শুধু পরিশুদ্ধই করে না বরং প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে দারুণ সাহায্য করে। এর সঙ্গে ঘরের আলোর দিকেও নজর দিতে হবে। পুরনো দিনের হলুদ ফিলামেন্ট বাল্ব বা হ্যালোজেন আলো প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে যা ঘরকে আরও বেশি গরম করে তোলে। তাই এগুলির পরিবর্তে আধুনিক কম শক্তির এলইডি বা সিএফএল আলো ব্যবহার করুন যা ঘরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
শোবার ঘরের বিছানার চাদর নির্বাচনেও একটু সতর্ক হতে হবে। গরমের দিনে সিল্ক বা সিন্থেটিক কাপড়ের চাদর বিছানায় পাতলে তা শরীরের তাপ আটকে রাখে এবং ঘাম বাড়ায়। এর বদলে সবসময় হালকা রঙের ১০০ শতাংশ খাঁটি সুতির বা লিনেন চাদর ব্যবহার করুন। সুতির কাপড় বাতাস চলাচল করতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম শুষে নিয়ে বিছানাকে ঠান্ডা রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে ঘরের মেঝেটি ভালো করে ঠান্ডা জল দিয়ে মুছে নিলেও ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায় এবং শান্তিময় ঘুমের পরিবেশ তৈরি হয়।