
Tomato Preservation Tips: বাজারে টমেটোর দাম যখন চড়া, তখন সামান্য অযত্নে তা পচে গেলে কার না গায়ে লাগে? বিশেষ করে এই বৈশাখে রোদের যা তেজ, তাতে ফ্রিজের বাইরে এক দিন রাখলেই টমেটো পিলপিলে হয়ে যাচ্ছে। অথচ সব সময় ফ্রিজে জায়গা থাকে না, আবার ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডায় অনেক সময় টমেটোর স্বাদও নষ্ট হয়। তবে কুছ পরোয়া নেই, পাঁচ ‘দেশি’ টোটকাতেই কেল্লাফতে।
প্রথম নিয়ম হলো কেনাকাটার সময় একটু চোখ খোলা রাখা। খুব বেশি পাকা বা নরম টমেটো না কিনে কিছুটা শক্ত আর লালচে টমেটো বাছুন। বাড়িতে আনার পর টমেটোগুলো ভুলেও ধোবেন না। ব্যবহারের আগে ধোওয়াই দস্তুর, কারণ আর্দ্রতা পচন ত্বরান্বিত করে।
টমেটো রাখার দিকটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ঝুড়িতে যেমন খুশি ঢেলে রাখেন। খেয়াল রাখবেন, টমেটোর বোঁটার দিকটি যেন নিচের দিকে থাকে। বোঁটার চারপাশ দিয়েই বাতাস যাতায়াত করে এবং সেখান থেকেই পচন শুরু হয়। উল্টে রাখলে ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং সবজি সতেজ থাকে।
অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গা বাছুন। সরাসরি রোদের আলো লাগে এমন জানলার ধারে সবজি রাখবেন না। রান্নাঘরের অন্ধকার কোণ বা আলমারির নিচেই টমেটো রাখার আদর্শ জায়গা। এতে টমেটো পিলপিলে হওয়ার ভয় থাকে না।
আরেকটি সহজ উপায় হলো খবরের কাগজ। প্রতিটি টমেটো আলাদা করে খবরের কাগজে মুড়িয়ে রাখুন। এতে বাড়তি ময়েশ্চার কাগজ শুষে নেবে এবং ফলত টমেটো অন্তত দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রেশ থাকবে। তবে একসঙ্গে অনেকগুলো না রাখাই ভালো।
কাগজ না থাকলে খড় বা শুকনা ঘাস ব্যবহার করা যায়। গ্রামেগঞ্জে আজও কাঠের বাক্সে খড় বিছিয়ে তার ওপর টমেটো সাজিয়ে রাখা হয়। এই পদ্ধতি টমেটোকে বাইরের উত্তাপ থেকে রক্ষা করে। বায়ু চলাচলের জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক ইনসুলেশন হিসেবে কাজ করে।
টেপ বা মোম ব্যবহার করেও চমৎকার ফল পাওয়া যায়। টমেটোর বোঁটার মুখটি যদি সেলোটেপ দিয়ে আটকে দেওয়া যায়, তবে বাইরে থেকে বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না। এতে টমেটোর বয়স যেন থমকে যায়। বড়জোর এক মিনিট সময় লাগবে, কিন্তু সবজি বাঁচবে অনেক দিন।
সবশেষে মনে রাখবেন, ফলের ঝুড়িতে আপেল বা কলার সঙ্গে টমেটো রাখবেন না। এই ফলগুলো থেকে ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয় যা টমেটোকে দ্রুত পাকিয়ে পচিয়ে দেয়। এই ঘরোয়া নিয়মগুলো মেনে চললে অগ্নিমূল্যের বাজারে একটি টমেটোও আর নষ্ট হবে না।