
গ্রীষ্মকাল আসতেই আবহাওয়া ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে। এই তীব্র দাবদাহ কেবল ত্বকেরই ক্ষতি করে না, সেই সঙ্গে জলও উত্তপ্ত করে তোলে। এই ঋতুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল স্নানের জন্য জলের কল খুললেই ঠাণ্ডা জলের বদলে ফুটন্ত গরম জল বেরিয়ে আসে। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, হাত ধোয়াও কঠিন হয়ে যায়। ছাদের ওপরের জলের ট্যাঙ্ক সারাদিন সূর্যের প্রখর তাপের মুখোমুখি থাকে; ফলে কল খুললেই বালতিতে যেন গিজার থেকে আসা গরম জলের মতোই উত্তপ্ত জল এসে পড়ে।
আপনিও যদি এই সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে থাকেন, তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। কিছু সহজ ও সাশ্রয়ী ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে ট্যাঙ্কের জল ফ্রিজের জলের মতো ঠাণ্ডা না হলেও- অন্তত স্নানের উপযোগী করে তুলতে পারেন। জেনে নিন, ট্যাঙ্কের জল ঠাণ্ডা রাখার কিছু বুদ্ধিদীপ্ত উপায়।
* আপনার ট্যাঙ্কের রং পরিবর্তন করুন; দেখবেন চোখে পড়ার মতো পার্থক্য তৈরি হয়েছে। জলের ট্যাঙ্কটি যদি কালো বা অন্য কোনও গাঢ় রঙের হয়, তবে সেই ট্যাঙ্ক সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি শোষণ করে। আপনার বাড়ির ট্যাঙ্ক যদি কালো রঙের হয়ে থাকে, তবে সেটিতে সাদা চুন বা সাদা রং করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। সাদা রং সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে, যার ফলে ট্যাঙ্কের ভেতরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং জল দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা থাকে।
* চটের বস্তার কৌশল হল সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর পদ্ধতি। বাড়িতে পড়ে থাকা কিছু পুরনো চটের বস্তা খুঁজে বের করুন এবং সেগুলো দিয়ে ট্যাঙ্কের চারপাশ মুড়িয়ে দিন। দিনে এক বা দু'বার হোস পাইপ দিয়ে বস্তাগুলো ভিজিয়ে দিন। ভেজা বস্তা ট্যাঙ্কের চারপাশের তাপমাত্রা কমিয়ে দেবে এবং জলকে গরম হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
* শেড বা ছাউনি তৈরি করে সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করতে পারেন। জল অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হল সূর্যের সরাসরি তাপ। ট্যাঙ্কের ওপর কাঠের খুঁটি পুঁতে সেখানে একটি সবুজ নেট (গ্রিন নেট) বা টিনের ছাউনি তৈরি করে দিতে পারেন। এটি ট্যাঙ্কটিকে সূর্যের সরাসরি তাপ থেকে রক্ষা করবে এবং জলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
* থার্মোকল বা ইনসুলেশন কোটিংয়ের সমাধান কাজে লাগতে পারে। আপনি যদি আরও টেকসই ও স্থায়ী কোনও সমাধান খুঁজে থাকেন, তবে ট্যাঙ্কের চারপাশে থার্মোকলের শিট বা পাত বসিয়ে দিন এবং টেপ বা দড়ি দিয়ে সেগুলো শক্ত করে বেঁধে দিন। থার্মোকল তাপকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। ট্যাঙ্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আপনি এর ওপর রং করতে পারেন কিংবা কোনও কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন।
*ট্যাঙ্ক ভরার সময় পরিবর্তন করুন। অনেক সময় আমরা দুপুরের দিকে মোটরের সাহায্যে ট্যাঙ্ক ভরি, যখন বাইরের তাপমাত্রা এমনিতেই অনেক বেশি থাকে। এর পরিবর্তে খুব ভোরে (সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে) অথবা গভীর রাতে ট্যাঙ্কটি ভরার চেষ্টা করুন। মিঠা জল মাটির নিচ থেকে আসে এবং তা শীতল হয়। রাতে ভরে রাখা জল সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডা থাকে।
* এছাড়াও ট্যাঙ্কের চারপাশে ছোট টবজাতীয় গাছ অথবা লতানো গাছ লাগান। সম্ভব হলে এমন লতানো গাছ বেছে নিন যা পুরো ট্যাঙ্কটিকে ঢেকে ফেলে। এই গাছগুলো কেবল অক্সিজেনই সরবরাহ করবে না, বরং নিজেদের ছায়ার মাধ্যমে ট্যাঙ্কটিকে সূর্যের প্রখর রশ্মি থেকেও রক্ষা করবে।