
বিজয়া মানেই বড়দের প্রণাম, সম বয়সীদের কোলাকুলি আর ছোটদের আদর। আর এই বিজয়া মানেই মিষ্টিমুখ। সেখানে যদি নারকেল নাড়ু না থাকে তাহলে কি বিজয়ার মিষ্টিমুখ সম্পূর্ণ হয়? একেবারেই হয় না। বাঙালির ঘরে ঘরে এই নাড়ু তৈরি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। তবে বিজয়ার সময় সাদা নারকেল নাড়ু খেতে বেশি ভাল লাগে। একেবারে সহজ উপায়ে, অথচ পুরনো দিনের রেসিপি অনুসরণ করে কী ভাবে আপনি এই নাড়ু তৈরি করবেন শিখে নিন।
উপকরণ
নারকেল নাড়ু তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। বস্তুত, এই উপকরণগুলির অধিকাংশই সাধারণত আমাদের রান্নাঘরে থাকে। এগুলি হল -
নারকেল মাঝারি আকারের, পরিষ্কার ২-৩টি
চিনি: নারকেলের পরিমাপ অনুযায়ী। সাধারণত, ১টি নারকেলের জন্য ২৫০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম চিনি যথেষ্ট। যাঁরা গুড়ের নাড়ু বানাতে চান, তাঁরা চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করতে পারেন।
ছোট এলাচ গুঁড়ো: ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)।
ঘি: ১ চামচ (ঐচ্ছিক)।
পদ্ধতি
স্টেপ ১-প্রথমে নারকেলগুলি ভেঙে ভিতরের শাঁস কুরে বের করে নিন। খেয়াল রাখবেন, নারকেলের ভিতরের কালো অংশ যেন তাতে না থাকে।
স্টেপ ২-একটি বড় কড়ায় নারকেল কোরা এবং চিনি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে হালকা আঁচে নাড়তে থাকুন। চিনি এবং নারকেল একসঙ্গে মিশে নরম হয়ে আসবে।
স্টেপ ৩-এ বার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল নারকেলের মিশ্রণটি ভাল ভাবে, ঠিকমতো তৈরি করা। আঁচ মাঝারি রেখে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। প্রায় ৩০-৪০ মিনিট পর মিশ্রণটি আঠালো হয়ে আসবে। চিনির রস নারকেলের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে শুকিয়ে এলে কড়া থেকে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করবে। এই অবস্থায় মিশ্রণটি কড়া থেকে সরিয়ে ফেলুন।
স্টেপ ৪-মিশ্রণটি হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই হাতে অল্প অল্প করে নিয়ে গোল গোল করে নাড়ুর আকার দিন। গরম অবস্থায় নাড়ু পাকালে সহজে গোল হয় এবং ভেঙে যায় না। প্রয়োজনে হাতে সামান্য ঘি মেখে নিতে পারেন। এতে নাড়ুর মিশ্রণ হাতে লেগে যাবে না।
স্টেপ ৫-সব নাড়ু তৈরি হয়ে গেলে একটি থালায় সাজিয়ে রাখুন এবং পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে নাড়ু শক্ত ও মজবুত হয়ে যাবে।