
বাঙালির চায়ের আড্ডায় সিঙাড়ার স্থান বহু পুরনো। চপ-তেলেভাজার চল থাকলেও গরম গরম সিঙাড়া আর সঙ্গে মিষ্টি চাটনির যুগলবন্দি যেন স্বর্গসুখ এনে দেয়। কলকাতা শহরের অনেক মিষ্টির দোকানই জনপ্রিয় তাদের এই সিঙাড়ার জন্য। আবার অনেক ছোট ছোট জায়গাতেই ভাল মানের সিঙাড়া বিখ্যাত। আলুর পুর দেওয়া কিংবা শীতকালে ফুলকপি-মটরশুঁটির সিঙাড়ার পাশাপাশি মাংসের সিঙাড়ার কদরও রয়েছে। তবে এইসবের মধ্যে ফুলকপির সিঙাড়া কিন্তু স্বাদে-গন্ধে এগিয়ে। এই মুখরোচক পদটি বাড়িতেই তৈরি করা যায় অনায়াসে। শিখে নিন তাহলে ফুলকপির সিঙাড়ার রেসিপি।
উপকরণ:
ময়দা - ২ কাপ
ফুলকপি - ১টি (ছোট ছোট কাটা)
আলু - ২টি (ছোট ডুমো করে কাটা)
পেঁয়াজ কুচি - ১টি (বড়)
কাঁচালঙ্কা - ২-৩টি (কুচি করা)
আদা বাটা - ১ চামচ
ধনে পাতা কুচি - ২ চামচ
তেল - ভাজার জন্য পরিমাণ মতো
লবণ - স্বাদমতো
চিনি - ১/২ চামচ (ইচ্ছা অনুযায়ী)
হলুদ গুঁড়ো - ১/২ চামচ
জিরে গুঁড়ো - ১/২ চামচ
ধনে গুঁড়ো - ১/২ চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো - ১/২ চামচ
কড়াইশুঁটি - ১/২ কাপ (ইচ্ছা অনুযায়ী)
প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রথমে সামান্য লবণ ও তেল দিয়ে ভাল করে ময়দা মেখে নিন। অল্প অল্প করে জল দিয়ে মেখে 'ডো' তৈরি করুন। ডো যেন খুব শক্ত বা খুব নরম না হয়। ডো ৩০ মিনিটের জন্য ঢেকে রেখে দিন।
২. কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি হালকা ভাজুন। এরপর আদা বাটা, কাঁচালঙ্কা কুচি দিয়ে আরও একটু ভেজে নিন।
৩. ওই তেলেই ফুলকপি এবং আলু দিয়ে দিন। ভাজতে ভাজতে হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং লবণ ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণে সামান্য জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। যতক্ষণ না ফুলকপি ও আলু নরম হয়ে যায় ততক্ষণ মাঝারি আঁচে রান্না করুন।
৪. সবজি সেদ্ধ হয়ে গেলে চিনি, গরম মশলা গুঁড়ো এবং ধনে পাতা কুচি দিয়ে মিশিয়ে নিন। পুর ঠান্ডা হতে দিন।
৫. ময়দার ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন।
৬. লেচিগুলি গোল করে বেলে পুর ভরে সিঙাড়ার আকার দিন। মুখ ভাল করে বন্ধ করে দিন, যাতে পুর বেরিয়ে না আসে।
৭. কড়াইয়ে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে সিঙাড়াগুলি ছেড়ে দিন। সোনালী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভেজে তুললেই তৈরি গরম গরম ফুলকপির সিঙাড়া।