
বাঙালির যে কোনও উদযাপন মানেই সেখানে বাসন্তী পোলাও থাকবেই। ঘিয়ের গন্ধ, সঙ্গে গোবিন্দভোগ চাল, কাজু-কিশমিশ, সব মিলেমিশে একাকার হয়ে থালায় এসে পড়ে ঝরঝরে বাসন্তী পোলাও। আর এই পোলাওয়ের সঙ্গে যদি থাকে কষা কষা মাটন কিংবা চিকেন অথবা আলুর দম, পনির দিয়েও মন্দ লাগে না এই বাসন্তী পোলাও খেতে। কিন্তু অনেকেই এই পোলাও রাঁধতে গিয়ে দলা পাকিয়ে ফেলেন। ঝরঝরে হয় না পোলাও। তাই পুজোর একদিন যদি বাসন্তী পোলাও করতে চান, তাহলে শিখে নিন ঝরঝরে পোলাও কী করে করবেন?
উপকরণ
গোবিন্দভোগ চাল
ঘি
চিনি
হলুদ
কাজু ও কিশমিশ
নুন
তেজপাতা
গোটা গরম মশলা
কাঁচালঙ্কা চেরা
প্রণালী
বাসন্তী পোলাও গোবিন্দভোগ চালেই হবে। এই চাল ঝটপট রান্না হয়, তাই গলে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রথমেই জল পাল্টে পাল্টে চাল ৩-৪ বার ধুয়ে নিন। এতে শুধু ময়লা নয়, চালের অনেকটা স্টার্চও বেরিয়ে যাবে। এরপর ঝাজরিতে রেখে চালের জল ঝরিয়ে নিন।
চালের জল ঝরে গেলে একটা বড় থালায় বিছিয়ে দিয়ে ফ্যানের তলায় রাখুন, যাতে জল সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। এবার চালের সঙ্গে ঘি মাখিয়ে নিন। ঘি হালকা গরম করে নেবেন। চাইলে এই সময়েই ঘিয়ের সঙ্গে অল্প হলুদ মিশিয়ে নিতে পারেন।
কড়াইয়ে ঘি গরম করে গরমমশলা ফোড়ন দিন। কাঁচালঙ্কা চেরা ও তেজপাতা দিয়ে দিন। সুগন্ধি বেরলে ঘি মাখানো গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে আঁচ কমিয়ে কিছুক্ষণ ভাজতে হবে। চাল ভালো করে না ভাজলে, পোলাও দলা পাকিয়ে যাবেই। এবার সামান্য নুন দিয়ে দিন।
পোলাও বানাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জলের মাপ। জল কম হলে পোলাও আধকাঁচা রয়ে যাবে, বেশি হলে চাল গলে মণ্ড পাকিয়ে যাবে। সহজ হিসাব হল, যত কাপ চাল নেবেন, সেই কাপের মাপেই তার দ্বিগুণ জল নিন। ২ কাপ চালের পোলাওয়ে ৪ কাপ জল দিতে হবে।
গোবিন্দভোগ চাল সেদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে না। জল ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিন। ৭-৮ মিনিট পর ঢাকনা খুলে একবার হালকা হাতে নাড়িয়ে দিন। কিন্তু সাবধান, যেন চাল না ভেঙে যায়। খেয়াল রাখুন পোলাও নীচে যেন ধরে না যায়। এই সময়েই চিনি যোগ করুন। চাইলে চিনি জলে গুলেও মেশাতে পারেন। শুরুতে চিনি দেবেন না, চাল সেদ্ধ হবে না।
রান্নার পর বাসন্তী পোলাও কড়াই বা হাঁড়িতে রাখবেন না। একটা বড় থালায় ছড়িয়ে দিন। এতে পোলাও মণ্ড পাকাবে না।
ব্যস ঝরঝরে বাসন্তী পোলাও রেডি। এবার কষা মাংস বা নিরামিষ কোনও পদের সঙ্গে পরিবেশন করুন।