
ভারতে সবাই Rum বলতে Old Monk-ই বোঝেন। কিন্তু ওল্ড মঙ্ক আসলে রাম-ই নয়। স্পষ্ট জানিয়েছে FSSAI। সত্যি বলতে, যাঁরা এ বিষয়ে একটু খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা জানতেনও। ওল্ড মঙ্ক আসলে 'রাম ফ্লেভারড স্পিরিট' বলা চলে। কম দামে মদ বিক্রি করতেই এই পদ্ধতি। তবে এবার থেকে আর এই ধরনের পানীয় ডাইরেক্ট রাম বলে বিক্রি করা যাবে না।
তাহলে আসল রাম কী?
রাম তৈরি হয় আখের রস বা আখ থেকে তৈরি মোলাসেস থেকে। প্রথমে সেটি ফার্মেন্ট করা হয়। পরে ডিস্টিলেশন হয়। এরপর একটু দামি রাম কাঠের পিপেতে রেখে দেওয়া হয়। এটিকে 'এজিং' বলে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কাঠের পিঁপেতে রাখার ফলে এর মধ্যে একটি ইউনিক স্বাদ, গন্ধ এবং রঙ আসে।
কিন্তু ভারতের বহু সস্তা ও মাঝারি দামের রামের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। এখানে অনেক সময় নিউট্রাল স্পিরিট বা ENA ব্যবহার করা হয়। এই স্পিরিট মূলত মোলাসেস থেকে তৈরি হয়। তার মধ্যে জল মিশিয়ে অ্যালকোহলের মাত্রা কমানো হয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী রং ও ফ্লেভার যোগ করা হয়। অর্থাৎ, এটি আসল রাম নয়। স্পিরিটের সঙ্গে জল ও ফ্লেভারিং মিশিয়ে রামের ছদ্মবেশ দেওয়া হয়। যদিও শৌখিন সুরাপ্রেমীরা পাশাপাশি দু'টি খেলেই কোনটি আসল রাম, তা ধরে ফেলবেন।
তাই একটু ধৈর্য্য ধরে ইনগ্রিডিয়েন্ট লিস্ট পড়ে দেখুন। তাহলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ভারতীয় 'হুইস্কি' নিয়েও প্রশ্ন
শুধু রাম নয়। একই প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় হুইস্কি নিয়েও। হুইস্কি সাধারণত দানাশস্য থেকে তৈরি হয়। বার্লি, ভুট্টা বা অন্য শস্য ফার্মেন্ট করে ডিস্টিল করা হয়। পরে কাঠের পিপেতে রেখে তার স্বাদ, টেস্ট ও রঙ আসে।
ভারতে অবশ্য অধিকাংশ হুইস্কি এই পদ্ধতিতে তৈরি হয় না। রামের মতোই নিউট্রাল স্পিরিটের সঙ্গে নির্দিষ্ট ফ্লেভার ও রং মেশানো হয়। কিছু হুইস্কিতে আবার সামান্য মল্ট স্পিরিট বা স্কচ মিশিয়ে স্বাদ বেটার করা হয়।
স্বাধীনতার আগে থেকেই সস্তায় মদ তৈরির জন্য মোলাসেস ব্যবহার করা হত। কারণ দেশের খাদ্যের জন্য শস্যের প্রয়োজন। তাই শস্য দিয়ে অ্যালকোহল তৈরি সে সময় বিলাসিতা ছিল।
তবে এটি আইন ভেঙে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে মদ বিক্রি বলা চলে না। কারণ কেউ একটু ইনগ্রিডিয়েন্ট লিস্ট খতিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেই জানতে পারবেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে ক্রেতার জানার অধিকার নিয়ে। বোতলে ঠিক কী রয়েছে, কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং সেটিকে কোন শ্রেণির পানীয় বলা হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আমের রস ও আমের রসের ফ্লেভার্ড ড্রিংক; দু'টি তো এক নয়!