
পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যলোকে এসে চার ধামে যাত্রা করেন। এই চার ধাম হল বদ্রীনাথ ধাম, দ্বারকা ধাম, পুরী ধাম এবং রামেশ্বরম। প্রথমে হিমালয়ের শিখরে অবস্থিত বদ্রীনাথ ধামে তিনি স্নান করেন। তারপর গুজরাটের দ্বারকা ধামে গিয়ে বস্ত্র পরিধান করেন। ওড়িশার পুরী ধামে ভোজন করেন। আর সবশেষে রামেশ্বরমে গিয়ে বিশ্রাম নেন। বলাবাহুল্য পুরী ধামে গিয়ে তিনি ছাপ্পান্ন ভোগ গ্রহণ করেন। সেই ভোগ নিবেদনের রীতি আজও চলে আসছে। জগন্নাথের ভোগে মূলত দুই ধরনের খাবার দেওয়া হয়। ভাত, ডাল, তরকারি, খিচুড়ি জাতীয় রান্না করা খাবার থাকে। আর থাকে খাজা, গজা, খই, মুড়কি জাতীয় শুকনো খাবার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোট ৬ বার ভোগ দেওয়া হয় জগন্নাথদেবকে। সব রান্নাই তৈরি হয় মন্দিরের নিজস্ব রন্ধনশালায়।
সাধারণ দিনে সকাল ৭টা থেকে আটটার মধ্যে জগন্নাথদেবকে প্রথম ভোগ দেওয়া হয়। এই ভোগকে বলা হয় ‘গোপালবল্লভা ভোগ’। এরপর জগন্নাথদেবের ভোগ হয় সকাল ১০টায়। যাকে বলা হয় ‘সকালা ধূপা’। এই সময়ের ভোগকে রাজভোগ অথবা কথাভোগও বলা হয়। সকালের এই ভোগে থাকে ২০ রকমের পদ। সেগুলি হল, পিঠে-পুলি, বাদকান্তি, এন্ডুরি, মাঠা পুলি, দহি, অন্ন, হামসা কেলি, বড়া কান্তি, কাকাতুয়া ঝিলি, আদা পঁচেদি, বোঁদে, টাটা খিচুড়ি, নুখুরা খিচুড়ি, সানা খিচুড়ি, মেন্ধা মুন্ডিয়া, আধা আনিকা, তাইলে খিচুড়ি, সাগু ও দালা খিচুড়ি এবং কণিকা।
রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বাড়িতেও জগন্নাথ দেবকে নিবেদন করতে পারেন ৫৬ ভোগের অন্যতম পদ "কণিকা ভোগ"। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সকাল ১০টার ভোগে এটি নিবেদন করা হয়। কণিকা ভোগ হল অনেকটা পোলাও-এর মতো। স্বাদে মিষ্টি। এর রেসিপি রইল আপনাদের জন্য়।
কণিকা ভোগের রেসিপি
গোবিন্দভোগ বা বাসমতি চাল (যে কোনও সুগন্ধি চাল)- ২০০ গ্রাম
গুড়- ১/২ কাপ
গাওয়া ঘি- ৪ টেবিল চামচ
দারচিনি- ১ (বড় সাইজ)
বড় এলাচ- ১
ছোট এলাচ - ৪
লবঙ্গ- ৫-৬
গোটা গোলমরিচ- ১০-১৫
জায়ফল- ১ টা ছোটো
গোটা জিরে- ১/২ চামচ
দারচিনি গুঁড়ো- ১ থেকে দেড় চামচ
কাজু, কিশমিশ- প্রয়োজনমতো
নুন- স্বাদ অনুসারে
পদ্ধতি
একেবারে প্রথমে চাল ভালো করে ধুয়ে আধ ঘণ্টার মতো জলে ভিজিয়ে রাখুন।
আধ ঘণ্টা পরে জল ঝরিয়ে নিন। এবং চাল শুকিয়ে সামান্য ঘি দিয়ে মেখে নিন।
হাঁড়ি বা কড়াইয়ে গাওয়া ঘি গরম করে তাতে দারচিনি, বড় এলাচ, ছোটো এলাচ, জয়িত্রী (থেঁতো করা), লবঙ্গ, গোটা জিরে এবং গোটা গোলমরিচ ফোড়ন দিন।
সুগন্ধ উঠলে তাতে কাজু এবং কিশমিশ দিয়ে হালকা করে ভেজে নিন।
ভাজা হয়ে গেলে এতে ঘি মাখানো চাল দিয়ে ভালো করে মেশান।
অন্যদিকে গুড় ভালো করে গুঁড়িয়ে নিন। দানা দানা যেন না থাকেন।
চাল হালকা ভাজা হলে তাতে নুন দিয়ে মিশিয়ে নিন।
এবার এতে পরিমাণ মতো জল দিন। মনে রাখবেন যতটা চাল নিয়েছেন তার দ্বিগুণ পরিমাণ জল দিতে হবে। সহজ কথা বললে, যদি দেড় কাপ চাল নেন, তাহলে তিন কাপ জল নিতে হবে।
ভালো করে মেশান। এবার পাত্রটি ঢাকা দিয়ে দিন।
মিনিট পাঁচেক পর চাল ফুটতে শুরু করলে তাতে আধ চামচ দারচিনি গুঁড়ো (গরম মশলা গুঁড়োও দিতে পারেন) দিয়ে ভালো করে মেশান।
এবার দিয়ে দিন গুঁড়িয়ে রাখা গুড়।
ভালো করে মিশিয়ে ফের ঢাকা দিয়ে দিন।
মিনিট পনেরো পর ঢাকনা খুলে দেখুন ভাত সিদ্ধ হয়ে গেছে। জলও শুকিয়ে যাবে।
এই সময় ফের দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে মিশিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ ঢাকনা দিয়ে রাখুন।
কণিকা ভাত স্বাদে নুন-মিষ্টি হয়। ভাতটি ঝরঝরে হয় না। সামান্য আঠালো হয়।
রথের দিন দুপুরে জগন্নাথ দেবকে কণিকা ভোগ নিবেদন করতে পারেন।