
গ্রীষ্মকালে শহরাঞ্চলে সাপের আনাগোনা প্রায়শই বেড়ে যায়। অনেক সময় ঘরবাড়ি বা পুরনো জিনিসপত্র পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ করেই সাপ বেরিয়ে আসে। সাপ দেখামাত্রই মানুষের প্রথম প্রতিক্রিয়া হল ভয় ও আতঙ্ক। যার ফলে মানুষ অনেক সময় ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ সাপই বিষহীন। কিন্তু তথ্যের অভাবে মানুষ সেগুলোকে প্রাণঘাতী বলে মনে করে। আপনি যদি সতর্ক থাকেন এবং দূর থেকে কিছু বিশেষ লক্ষণের প্রতি মনোযোগ দেন, তবে আপনার সামনে থাকা প্রাণীটি কতটা বিপজ্জনক, তা সহজেই নির্ণয় করতে পারবেন।
মাথার আকৃতির প্রতি মনোযোগ দিন
বিষধর সাপ চেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল তাদের মাথার আকৃতি। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ বিষধর সাপের মাথা হয় ত্রিকোণাকার। তাদের চোয়াল বেশ চওড়া হয়, যাতে বিষগ্রন্থিগুলো সহজেই সেখানে জায়গা করে নিতে পারে। অন্যদিকে, বিষহীন সাপের মাথা সাধারণত গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়ে থাকে। তবে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে কিছু সাপ তাদের ফণা বা মাথার অংশ ফুলিয়ে ফেলতে পারে; তাই সাপ চেনার ক্ষেত্রে কেবল এই একটি লক্ষণের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়।
চোখের মণি বড় একটি ইঙ্গিত দেয়
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুযায়ী, সাপের চোখের দিকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করাটাই তাকে সঠিকভাবে চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। বিষধর সাপের চোখের মণি হয় লম্বা ও উল্লম্ব—ঠিক বিড়ালের চোখের মণির মতো। এর বিপরীতে, বিষহীন সাপের চোখের মণি হয় গোলাকার- যেমনটা মানুষের চোখে দেখা যায়। আলোর তীব্রতা বা পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে চোখের মণির আকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে; তাই দূর থেকে টর্চলাইট বা প্রাকৃতিক আলোর সাহায্যে সাপের চোখ পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
লেজ ও পেটের দিকের দাগ বা আঁশ লক্ষ্য করুন
ফ্লোরিডা মিউজিয়ামের একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, সাপের লেজ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিষধর সাপের লেজের নিচের অংশে আঁশ বা শল্কের একটি একক সারি থাকে। অন্যদিকে, বিষহীন সাপের লেজের শেষ প্রান্তে আঁশের দুটি আলাদা সারি দেখা যায়। এছাড়া, র্যাটলস্নেকের (Rattlesnake) মতো কিছু সাপ লেজ নাড়িয়ে এক ধরণের খটখটে শব্দ তৈরি করে, যা তাদের বিষধর হওয়ার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ।
নাক ও শরীরের রঙও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য মতে, সাপের নাক ও চোখের মাঝখানে ছোট ছোট গর্ত বা 'পিট' থাকে, যা তাদের তাপ বা উষ্ণতা অনুভব করতে সাহায্য করে। তাপ-সংবেদী এই গর্তগুলো সাধারণত বিষধর সাপের শরীরেই দেখা যায়। পাশাপাশি, উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের সাপগুলোকে সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত; কারণ প্রকৃতির রাজ্যে উজ্জ্বল রঙ অনেক সময়ই বিপদের সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।