
বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। জগন্নাথ দেব মাসির বাড়ি রওনা দেবেন। জগন্নাথ দেবকে পুজো হিসেবে অন্যতম ভোগ দেওয়া হয় মালপোয়া। এই মালপোয়া খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ নেই। দোকানে এই সময় এই মিষ্টির চাহিদা থাকে তুঙ্গে। চাইলে আপনিও বাড়িতে তৈরি করতে পারেন বিশেষ এই মিষ্টি। মালপোয়ার সংস্কৃত নাম “মল্লপূধা।” মালপোয়া খেলে মল্ল অর্থাৎ পালোয়ানের মতো শক্তি হয়, এই বিশ্বাসে এক সময় ঈশ্বরের কাছে মালপোয়া ভোগ নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করা হত। ভিন্ন মতে, মালপোয়ার ‘মাল’ শব্দটি নাকি ফারসী। আর পোয়া এসেছে সংস্কৃত ‘পূপ’ থেকে। পূপ মানে পিঠে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যেও মালপোয়া অত্যন্ত জনপ্রিয়। জগন্নাথ দেবের ৫৬ ভোগের মধ্যে থাকে মালপোয়া।
উপকরণ
দুধ- দেড় কাপ (হালকা গরম)
ছানা পরিমানমতো
ময়দা- ১ কাপ
মৌরি- ১ চামচ
ঘি / সাদা তেল- ভাজার জন্য
দুধ – ১ লিটার
চিনি – ৩.৫ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
কাজু, পেস্তা, আমন্ড (ইচ্ছে মতো)
কেশর- এক চিমটি (দুধে ভেজানো, চাইলে দিতে পারেন)
পদ্ধতি
ছানা ও ময়দা ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। একেবারে মিশে গেলে তাতে অল্প অল্প করে ময়দা দিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন। যদি দুধ, ছানা এবং ময়দা মিক্সিতে দিয়ে মিহি করে মেশাতে পারেন, তাহলে আরও ভাল হয়। সেক্ষেত্রে ময়দা ছাঁকনিতে ছেঁকে নেবেন। তাহলে ব্যাটার আরও ভাল হবে। এবার ব্যাটারটি একটি বড় পাত্রে ঢেলে নিন। এতে দিয়ে দিন এক চামচ মৌরি। ভাল করে মিশিয়ে নিন। মৌরি দেওয়ার আগে সেগুলিকে একটু থেঁতো করে নিলে ভাল হয়। এবার কড়াইয়ে ঘি এবং সাদা তেল গরম করুন। ডুবো তেলে মালপোয়া ভাজতে হবে। মালপোয়া তৈরি করার সময় ঘি গরম হয়ে গেলে এক ফোঁটা ব্যাটার নিয়ে তাতে দিয়ে দেখুন, মিশ্রণটি ভেসে উঠছে কিনা। এইভাবেই বুঝতে পারবেন তেল বা ঘি সঠিক গরম হয়েছে কিনা। এবার একটি হাতা করে অল্প ব্যাটার নিয়ে তেলে সাবধানে ছেড়ে দিন। দেখবেন সেটি গোল লুচির মতো তেলে ভেসে উঠবে। এপিঠ ওপিঠ করে মালপোয়া ভেজে নিন। মালপোয়ার রং হালকা বাদামি করতে চাইলে বেশিক্ষণ ধরে ভাজুন। এভাবে একে একে মালপোয়া ভাজতে থাকুন, সবশেষে চিনির রসে মালপোয়াগুলো ডুবিয়ে রাখুন।