
বলিউডের দাপুটে গায়িকা অলকা ইয়াগনিক। একের পর এক হিট গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মনে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন গায়িকা। কিন্তু জীবন আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে এক অন্য গন্তব্যে। যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে প্রবল ভাবে। জনজীবন থেকে প্রায় বছর দুয়েক দূরে সরে থাকার পর অবশেষে বর্ষীয়ান গায়িকাকে দেখা গেল পদ্ম সম্মানের মঞ্চে। আসলে গত দুবছর ধরে গায়িকা এক বিরল রোগ সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস রোগে আক্রান্ত। পদ্ম ভূষণ সম্মান পাওয়ার পর গায়িকা তাঁর এই রোগ ও ধীরগতিতে সুস্থ হওয়া নিয়ে কথা বলেছেন।
অলকা ইয়াগনিকের পোস্ট
২৩ জুন রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পদ্ম পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পদ্মভূষণ গ্রহণ করেন অলকা। অনুষ্ঠানের পরে তিনি অনুরাগীদের উদ্দেশে একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি জানান, গত কয়েক বছর তাঁর জীবন সহজ ছিল না। বিরল শ্রবণ সমস্যার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিরল রোগে আক্রান্ত অলকা
অলকা ইয়াগনিক বিরল রোগ 'Sensorineural Hearing Loss'-এ আক্রান্ত। গত দুবছর ধরে তিনি রোগের সঙ্গে লড়ছেন। যে কারণে তিনি লাইমলাইট থেকেও দূরে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি এমন এক ধরনের শ্রবণ সমস্যা যেখানে কানের অভ্যন্তরীণ অংশ বা মস্তিষ্কে শব্দ পৌঁছে দেওয়ার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি ভাইরাল সংক্রমণের পর হঠাৎ করেই তাঁর এই সমস্যা শুরু হয়েছিল। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবে শব্দ শোনা, কথাবার্তা বোঝা এবং গান রেকর্ড করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। সমস্ত শ্রবণশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৫-১৫% এই ধরনের হয়ে থাকে।
কী কী কারণে হয়?
এই সমস্যাটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন উচ্চ শব্দ, সংক্রমণ, অটোইমিউন রোগ, আঘাত, স্নায়বিক বা রক্তনালী সংক্রান্ত সমস্যা, নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ এবং বিরল ক্ষেত্রে টিউমার। এটি যে কোনও বয়সের মানুষের হতে পারে এবং এটি কিছু সময়ের জন্য বা সারাজীবনের মতো স্থায়ী হতে পারে।
সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস-এর কারণ
কিছু মানুষের এই রোগ জন্মগত হতে পারে। আবার কারোর কারোর জীবনের যে কোনও সময়ে হতে পারে। জন্মগত কারণগুলোর মধ্যে জিনগত কারণ বা গর্ভাবস্থাকালীন জটিলতা অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে শব্দজনিত কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানের ভেতরের অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়াও মেনিনজাইটিস, মাম্পস, হাম এবং অটোইমিউন রোগ যেমন মেনিয়ার্স ডিজিজ-এর কারণেও এই রোগ হতে পারে। মাথায় আঘাত লাগলেও শ্রবণ স্নায়ুকে তা প্রাভাবিত করতে পারে।
লক্ষণ ও চিকিৎসা
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কথা বুঝতে অসুবিধা, স্পষ্টভাবে শুনতে না পারা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস), তীক্ষ্ণ শব্দ শুনতে অসুবিধে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অবস্থাটি নিরাময় করা যায় না। তবে, হিয়ারিং এইড, ককলিয়ার ইমপ্লান্ট এবং ওষুধের মতো চিকিৎসা উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জীবনকে সহজ করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।