
গ্রীষ্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সাপের আনাগোনাও বেড়ে যাওয়াটা বেশ সাধারণ একটি বিষয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়শই এমন সব ছবি ও ভিডিও দেখা যায়, যেখানে সাপ মানুষের জুতোর ভেতরে আরাম করে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে রয়েছে। এমন দৃশ্য বেশ ভীতিকর। অনেক সময় আমাদের মনেও ভয় জাগে, আমরা হয়তো যে জুতো পরতে যাচ্ছি, সেসময় কোনও বিপত্তিই হয়তো আমাদের সঙ্গেও ঘটে যেতে পারে। এই ধরণের ছবি ও ভিডিও দেখার পর অনেকর মনে একটা প্রশ্ন জাগতে পারে, মানুষের জুতোর প্রতি সাপের এমন অদ্ভুত আসক্তি কেন? এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং কিছু সাধারণ কারণের জন্যই সাপের জুতোর ভেতরে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
সাপ কেন জুতোকেই বেছে নেয়?
সাপ হল শীতল-রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। এর অর্থ হল, তারা নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই, জুতোর ভেতরের অন্ধকার ও আবদ্ধ জায়গাটি তাদের জন্য একটি নিরাপদ এবং শীতল পরিবেশের জোগান দেয়। জুতো সাধারণত চামড়া বা পুরু কাপড় দিয়ে তৈরি হয়, যা সাপদের বাইরের তীব্র গরম বা হাড়কাঁপানো শীত থেকে রক্ষা করে। তারা জুতোর ভেতরের এই জায়গাটিকে একটি নিরাপদ গর্ত বা আস্তানা হিসেবে গণ্য করে, যেখানে কেউ তাদের আক্রমণ করবে না এবং তারা নিশ্চিন্তে ও আরামদায়কভাবে বসবাস করতে পারবে।
গন্ধ এবং শিকারের মধ্যে সম্পর্ক
জুতোর ভেতরে ঘাম এবং আর্দ্রতার গন্ধ লেগে থাকে। এই গন্ধ ইঁদুর বা ছোটখাটো পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করতে পারে। আর আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, সাপ মূলত ইঁদুর এবং পোকামাকড় খেয়েই বেঁচে থাকে। কখনও কখনও শিকারের পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে সাপে জুতোর কাছাকাছি চলে আসে; আর ঠিক তখনই জুতোর ভেতরের আর্দ্রতা ও উষ্ণতা তাদের সেখানেই থেমে যেতে প্ররোচিত করে।
নিরাপত্তার জন্য কী করণীয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ কখনওই ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মানুষকে আক্রমণ করে না। কেউ যদি অসতর্কতাবশত বা না দেখেই জুতোর ভেতরে পা ঢুকিয়ে দেন, তখন সাপ মনে করে যে তাকেই বুঝি আক্রমণ করা হচ্ছে। আর ঠিক তখনই আত্মরক্ষার্থে সে ছোবল বসিয়ে দেয়। এই ধরনের বিপদ এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল—জুতো সবসময় মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে বা নিরাপদ স্থানে রাখা এবং পরার আগে তা ভাল করে ঝেড়ে নেওয়া। বাড়ির বাইরে জুতো রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।