
সাপ সম্পর্কে মানুষের মনে নানা রহস্য ও ভীতি কাজ করে। যদি কেউ নিজের বাড়ি, বাগান কিংবা অন্য কোথাও সাপ দেখতে পান, তবে তিনি মনে মনে নানা কিছু কল্পনা করতে শুরু করেন। সেক্ষেত্রে, মানুষ প্রায়ই ধরে নেন যে তাদের বাগান বা বাড়ির কোনও গর্ত মানেই সাপের গর্ত। কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রকৃতির বুকে এমন হাতেগোনা কয়েকটি প্রাণীর মধ্যে সাপ অন্যতম, যাদের নিজেদের বাসস্থান বা ঘর তৈরি করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। ইঁদুরের মতো মাটি খোঁড়ার জন্য তাদের নখ নেই, আবার উইপোকার মতো লালা ব্যবহার করে ঘর বানানোর ক্ষমতাও তাদের নেই। তাহলে প্রশ্ন হল—তাদের বাসস্থান তৈরি করে কারা?
অন্যের বাসস্থানে জবরদখল
সাপেরা মূলত 'বাসস্থান দখলকারী' প্রাণী। অর্থাৎ তারা অন্য প্রাণীদের তৈরি করা বাসস্থানে নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। অধিকাংশ সাপই তাদের বসবাসের জন্য ইঁদুর, কাঠবিড়ালি কিংবা অন্যান্য ছোট আকারের প্রাণীদের গর্ত ব্যবহার করে। তারা এই গর্তগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে বসবাসরত প্রাণীকে শিকার করে ভক্ষণ করে। শিকার পর্ব শেষ হওয়ার পর, তারা সেই শূন্য হয়ে যাওয়া গর্তটিকেই নিজেদের নতুন বাসস্থান হিসেবে বেছে নেয়। এভাবে তারা একই সঙ্গে খাদ্য এবং একটি তৈরি করা বাসস্থান—উভয় সুবিধাই পেয়ে যায়।
উইপোকার ঢিবিতেও তাদের আস্তানা
সাপের বসবাসের জন্য অন্যতম প্রিয় একটি স্থান হল উইপোকার ঢিবি বা গর্ত। উইপোকা কাদা মাটি এবং নিজেদের লালা ব্যবহার করে অত্যন্ত মজবুত ও শীতল বাসা তৈরি করে। সাপেরা প্রায়শই এই ঢিবিগুলোর গায়ে থাকা ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। যেহেতু উইপোকার এই ঢিবিগুলো বেশ গভীর হয় এবং ভেতরের তাপমাত্রা সর্বদা স্থিতিশীল থাকে, তাই সাপ গ্রীষ্ম ও শীত- উভয় ঋতুতেই টিকে থাকার উদ্দেশ্যে সেগুলোকে নিজেদের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করে।
প্রাকৃতিক ফাটল ও পুরনো গাছপালা
কেবল অন্যান্য প্রাণীর গর্তেই নয়, সাপ পুরনো দালানকোঠার ফাটল, পাথরের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা এবং পুরনো গাছের গুঁড়ির ভেতরের গহ্বরেও আশ্রয় নেয়। তাদের শরীর এতটাই নমনীয় যে, অত্যন্ত সরু বা সংকীর্ণ জায়গার ভেতরেও খুব সহজেই নিজেদের মানিয়ে নিতে বা ঢুকিয়ে ফেলতে পারে। এই ধরনের বাসস্থানগুলো তাদের কেবল শিকারি প্রাণীদের হাত থেকেই রক্ষা করে না, বরং বংশবিস্তারের জন্যও একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে।