
গরমের পারদ ক্রমেই চড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মাঝে মধ্যে, কুলার এবং ফ্যান চালানো সত্ত্বেও ঘরের দেয়ালগুলো যেন চুল্লির মতো উত্তপ্ত মনে হয় এবং বাতাস আর্দ্রতার বদলে আগুনের মতো মনে হতে থাকে। আপনার ঘরটি যদি বাড়ির ওপরের তলায় হয় কিংবা সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন) না থাকে, তবে কিছু কৌশল এবং ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে আপনি এসি ছাড়াই ঘরকে ঠান্ডা রাখতে পারেন।
ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়
ক্রস ভেন্টিলেশনের দিকে নজর দিন
আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন কেন ঘর ঠান্ডা হতে চায় না? এর মূল কারণ হল বাতাসের আটকে থাকা। পুরনো আমলের বাড়িগুলোতে মুখোমুখি জানালা থাকত, যার ফলে বাতাস অবাধে চলাচল করতে পারত—এই পদ্ধতিটিই ক্রস ভেন্টিলেশন নামে পরিচিত। আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে সাধারণত একটি মাত্র জানালা থাকে, যার ফলে গরম বাতাস ঘরের ওপরের অংশে আটকে পড়ে।
এর ফল হল, আপনি ফ্যানের গতি যতই বাড়ান না কেন, এটি কেবল সেই আটকে থাকা, চুল্লির মতো উত্তপ্ত বাতাসকেই ঘরের ভেতর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেয়। যতক্ষণ না সেই গরম বাতাস ঘর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ আপনার ঘর কখনওই ঠান্ডা হবে না। সন্ধ্যার সময় ঘরের জানালা খুলে দিন। এতে গরম বাতাস ঘর থেকে বেরিয়ে যাবে এবং সতেজ বাতাস ঘরে প্রবেশ করবে। যদি ঘরে মাত্র একটি জানালা থাকে, তবে দরজাটি খোলা রাখুন।
সূর্যোদয়ের অন্তত ২০ মিনিট আগে এবং সূর্যাস্তের পর ঘরের জানালা ও দরজাগুলো খুলে রাখুন।
ভেজা চাদর বা কাপড় ব্যবহার
কুলারের ঠিক উল্টো দিকের জানালায় একটি ভেজা চাদর বা খসের পর্দা ঝুলিয়ে দিন। এটি ঘরে প্রবেশকারী বাতাসের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
এক্সহস্ট ফ্যানের সঠিক ব্যবহার
রান্না করার সময় কিংবা দুপুরের দিকে এক্সহস্ট ফ্যানটি চালিয়ে রাখুন, যাতে ঘরের ভেতরের গরম বাতাস দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
বরফ-মিশ্রিত জল
কুলারের ট্যাঙ্কে ঠান্ডা জলের সঙ্গে কয়েক টুকরো বরফ মিশিয়ে দিন। এটি মুহূর্তের মধ্যেই বাতাসকে আর্দ্র ও শীতল করে তোলে।
ছাদে চুন বা সাদা রঙের প্রলেপ
আপনার ঘরটি যদি বাড়ির ওপরের তলায় হয়, তবে ছাদের ওপর তাপ-প্রতিফলক সাদা রঙের প্রলেপ কিংবা চুনের আস্তরণ দিন। এটি সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়।
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখুন
গ্রীষ্মকালে বেডরুমে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলো বন্ধ রাখুন। টিভি, কম্পিউটার এবং অতিরিক্ত বাতি বা আলোকসজ্জা থেকে তাপ উৎপন্ন হয়। প্রয়োজন না থাকলে এগুলো বন্ধ করে রাখুন।