
দই প্রতিটি পরিবারের জন্য এই গরমে জনপ্রিয় খাবার। এটি কেবল শরীরকে ঠান্ডা রাখে না, খাবারের স্বাদও বাড়িয়ে তোলে। ঠান্ডা দই খাওয়া খুবই আনন্দের, কিন্তু বাজার থেকে দই কেনা সবসময় সম্ভব হয় না এবং বাড়িতে বানানো দই ততটা ঘন হয় না।
প্রায়শই, বাড়িতে দই জমাট বাঁধার পর তা পাতলা বা জলের মতো হয়ে যায়। এতে অনেকেই ভাবতে থাকেন যে, দোকানের কেনা দইয়ের মতো বাড়িতে বানানো দই যাতে ক্রিমি ও ঘন হয়, তা নিশ্চিত করতে কী করা যেতে পারে। আপনি যদি একই রকম ঘন, ক্রিমি দই তৈরি করতে না পারেন, তবে আপনার দই জমাট বাঁধানোর পদ্ধতিটি ভুল হতে পারে। কয়েকটি সহজ টিপস মনে রাখলে আপনি নিখুঁত ক্রিমি ভাবটি পেতে পারেন। আপনি যদি চান যে বাড়িতে বানানো দই দোকানের কেনা দইয়ের মতো ঘন, দলাযুক্ত এবং ক্রিমি হোক, তবে এই সহজ টিপসগুলি আপনাকে সাহায্য করবে।
ফুল-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করুন
আপনি যদি ঘন দই চান, তবে প্রথমে দুধের কথা ভাবুন। বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধ দইকে আরও ক্রিমি করে তোলে। টোনড বা ডাবল টোনড দুধের পরিবর্তে, দই বানানোর জন্য ফুল ক্রিম দুধ ব্যবহার করুন। দুধ যত ঘন হবে, দই তত বেশি ক্রিমি হবে। তাই, দই বানানোর জন্য ফুল ক্রিম দুধ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। দুধ সঠিকভাবে ফোটানো প্রয়োজন: দই বানানোর আগে দুধ ভালোভাবে ফুটিয়ে নেওয়া জরুরি। দুধ ২-৩ বার ফুটিয়ে নিন, এতে এর ঘনত্ব উন্নত হয়। ফোটানোর পর দুধ হালকা গরম হওয়া পর্যন্ত ঠান্ডা করুন। মনে রাখবেন, যখনই দই বানাবেন, দুধ যেন খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা না হয়, নাহলে দই ঠিকমতো জমবে না।
দই জমানোর জন্য ভালো স্টার্টার কালচার ব্যবহার করুন
দই জমানোর ক্ষেত্রে স্টার্টার কালচার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সর্বদা তাজা ও উন্নত মানের স্টার্টার কালচার ব্যবহার করুন। সামান্য টক দই দ্রুত জমে যায়। অনেকে দই দ্রুত জমানোর জন্য এতে একটি কাঁচা লঙ্কার ডাঁটা যোগ করার কৌশলটিও ব্যবহার করেন।
এই কৌশলটি দইকে নিখুঁতভাবে জমাট বাঁধাতে সাহায্য করবে। দই জমাট বাঁধার পর পাত্রটি গরম রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য, পাত্রটি ঢেকে একটি উষ্ণ জায়গায় রাখুন। আরেকটি সহজ উপায় হলো দইসহ পাত্রটি একটি মোটা তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা। এটি ভেতরের তাপমাত্রা বজায় রাখে এবং সঠিকভাবে জমাট বাঁধা নিশ্চিত করে। খেয়াল রাখবেন যেন দই ঘন ঘন নাড়াচাড়া না করা হয়। ৫-৬ ঘণ্টা পর এটি পরীক্ষা করে দেখুন।
দই জমে যাওয়ার পর এই কাজগুলো করুন
দই পুরোপুরি জমে গেলে, এটি খুব বেশি নাড়বেন না। দই জমে গেলে সরাসরি ফ্রিজে রাখুন। এতে জলীয় বাষ্প কমে যাবে এবং দই আরও ঘন থাকবে। এই সহজ বিষয়গুলো মনে রাখলে, আপনি বাজারের মতোই বাড়িতে সহজে মসৃণ, ক্রিমি এবং ঘন দই তৈরি করতে পারবেন।