
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের সঙ্গে মস্তিষ্কেরও বদল ঘটে। স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও হারান বহু মানুষ। আসলে ৩০ থেকে ৪০ বছরের পথে মস্তিষ্ক সংকুচিত হতে শুরু করে। আর ৬০ বছরে পৌঁছে গেলে সংকোচন আরও তীব্র গতি নেয়। মস্তিষ্কের একটা অংশ সংকুচিত হয় না। বরং ধাপে ধাপে মস্তিষ্কের ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াই গতিশীল হয়ে ওঠে যদি আপনার জীবনযাপন অনিয়ন্ত্রিত হয়। আধুনিক জীবনযাপন মানুষকে সেদিকেই নিয়ে যাচ্ছে। আরে এতে কতটা ক্ষতি হচ্ছে তা বোঝার আগেই সব শেষ! মস্তিষ্কের বারোটা বাজলে কী কী সমস্যা হতে পারে জানেন-
দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথা- অনেকের পিঠে ও কোমরে ব্যথা হয়। তা কমেও যায়। কিন্তু মস্তিষ্ক সংকুচিত হলে সেই সমস্যা আরও ১১ শতাংশ বেড়ে যায়। ২০০৪ সালে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ পাতলা হতে থাকে। সেজন্য পিঠে ব্যথার সমস্যা আরও বাড়ে। ধূসর পদার্থ আমাদের মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশী নিয়ন্ত্রণ, অনুভব করা, দর্শন, শ্রবণ, স্মৃতির মতো কাজের দায়িত্ব কাঁধে নেয়। .
মদ- অত্যাধিক মদ খাওয়ার প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে মস্তিষ্কের গঠন ও আকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি স্মৃতিশক্তিকেও প্রভাবিত করে।
ইন্টারনেট আসক্তি- দিনের বেশিরভাগ সময় এখন মানুষের কাটে মোবাইল ফোন ঘেঁটে। আর মোবাইলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে অনলাইন গেমিং খেলেন বহু মানুষ। এতে মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব পড়ে। জুন মাসে সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহারের ক্ষতিকারক ফলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। কলেজ পড়ুয়াদের মস্তিষ্কের স্ক্যান করেন গবেষকরা। দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে এই যুবকদের মস্তিষ্কের অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে গিয়েছে। ১০ থেকে ২০ যুবকের মধ্যে এই সমস্য়া মিলেছে।
কম ঘুম- ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কর কার্যকারিতা লোপ পায়। এছাড়া যাঁদের ঘুমের সমস্যা থাকে তাঁদের মস্তিষ্ক সময়ের আগেই সংকুচিত হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা কম ঘুমান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি। অনেকেই এখন মোবাইলে মগ্ন থাকেন রাতে। ফলে ঘুম কম হয়। আর এর প্রভাব পড়ছে মস্তিষ্কে।
প্রচুর খাওয়া- প্রচুর খাবার খেলেও মস্তিষ্ক দ্রুত সংকুচিত হতে থাকে। ডায়েটে ভিটামিন B12 -এর অভাবের কারণে এই সমস্যা হয়। ২০০৮ সালে একটি সমীক্ষায় গবেষকরা দেখেছেন ভিটামিন বি১২-র অভাব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। যাঁরা একেবারেই আমিষ খান না, তাঁদের মস্তিষ্ক সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি ৬ গুণ বেশি।