
কুনকি হাতি লক্ষ্মীর শোক কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় ধাক্কা শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে। দীর্ঘ দশ বছরের বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল পার্কের একমাত্র গণ্ডার ‘ভীম’। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে বিশালাকায় এই সদস্যটি। তার প্রয়াণের সঙ্গেই কার্যত ইতি ঘটল পার্কের জনপ্রিয় ‘রাইনো সাফারি’র। প্রিয় সদস্যের বিয়োগে যেমন শোকাচ্ছন্ন পার্কের কর্মীরা, তেমনই মনমরা উত্তরবঙ্গের পর্যটন প্রেমীরাও।
ভীমের বেঙ্গল সাফারিতে আগমনের ইতিহাস কোনও রোমাঞ্চকর গল্পের চেয়ে কম নয়। জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে সঙ্গিনীকে কেন্দ্র করে লড়াইয়ের জেরে এলাকা ছাড়া হয়েছিল সে। তিস্তার পাড় ধরে পথ হারিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল মহানন্দা অভয়ারণ্যের সেবকে। তখন বনদফতর তাকে উদ্ধার করে নবনির্মিত বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে আসে। সে সময়ে তার নাম ছিল ‘কানহেলা’, পরে পার্কে আসার পর তার নতুন নাম হয় ‘ভীম’।
শুরুর দিকে বন্য মেজাজ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের নয়নমণি হয়ে উঠেছিল সে। তাকে কেন্দ্র করেই পর্যটন প্রসারের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল আলাদা সাফারি। তবে মাঝেমধ্যেই মেজাজ হারিয়ে পার্কের দেওয়াল ভেঙে বেরনোর চেষ্টা করত ভীম। তার একাকীত্ব কাটাতে সঙ্গিনীর খোঁজও চালাচ্ছিল কর্তৃপক্ষ, কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হওয়ার আগেই সব শেষ।
পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে তার। সাফারির ডিরেক্টর ই. বিজয় কুমার জানান, গণ্ডারের বয়স হয়েছিল এবং বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যার কারণেই এই পরিণতি। নিয়ম মেনে ময়নাতদন্তের পর বনদফতরের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। যদিও প্রশাসনের এই ‘বার্ধক্যজনিত’ তত্ত্ব মানতে নারাজ পশুপ্রেমীদের একাংশ। রক্ষণাবেক্ষণ বা চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আপাতত ভীমের সেই বিচরণভূমি এখন খাঁ খাঁ করছে, যা এক সময় পর্যটকদের কলতানে মুখর থাকত।