
Darjeeling-Dooars Tourism Problem: এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ মানেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে তিলধারণের জায়গা থাকে না। সমতলের ঘামচুর গরম থেকে বাঁচতে দক্ষিণবঙ্গের পর্যটকদের প্রথম পছন্দ দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা সিকিম। কিন্তু এবারের ছবিটা ঠিক উল্টো। এপ্রিলের শেষ লগ্নেও কার্যত পর্যটকশূন্য পাহাড়। যে সময়ে ম্যালে পা ফেলার জায়গা থাকে না, সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা। হোটেল মালিক থেকে শুরু করে ট্যুর অপারেটর, ভোটের ঝড়ে ভরা মরশুমে বড়সড় লোকসানের আশঙ্কায় সকলের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের কারণেই পাহাড় ও ডুয়ার্সে এই চরম মন্দা। গরুমারা থেকে জলদাপাড়া, ডুয়ার্সের রিসর্টগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভোট এলেই পর্যটন ধাক্কা খায়। এপ্রিলে তো বটেই, মে মাসের ১৫ তারিখের আগে কোনও বুকিং নেই বললেই চলে।" এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং নির্বাচনের অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে মার্চ থেকেই মন্দার কবলে ডুয়ার্স।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন সামার ট্যুরিজমের গোল্ডেন পিরিয়ড। যেখানে এই সময় হোটেলগুলো ১০০ শতাংশ ভর্তি থাকে, সেখানে এখন পর্যটকের সংখ্যা মাত্র ১৫ শতাংশে ঠেকেছে। কলকাতার পর্যটকদের বুকিং একেবারে তলানিতে। দার্জিলিঙের হোটেল ব্যবসায়ী জীবন নন্দী হতাশ গলায় জানালেন, "অন্য বছর এপ্রিলের শেষে পর্যটক ফিরিয়ে দিতে হয়, সেখানে এবার সব ঘর ফাঁকা।"
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মন্দার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যটকদের হোটেল ছাড়ার নির্দেশিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি। দ্বিতীয়ত, ভোটের কাজে পর্যটন গাড়িগুলো রিকুইজিশন করে নেওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা। ঝক্কি এড়াতে শেষ মুহূর্তে অধিকাংশ পর্যটক তাঁদের বুকিং বাতিল করেছেন। বর্তমানে যে নামমাত্র ভিড় পাহাড়ে দেখা যাচ্ছে, তা মূলত দিল্লি, পুনে কিংবা বেঙ্গালুরুর পর্যটক। দক্ষিণবঙ্গের পর্যটকদের ছাড়া পাহাড় যে এভাবে 'প্রাণহীন' হয়ে পড়বে, তা কল্পনাও করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর এই গরমের মরশুম পাহাড়ের পর্যটন মানচিত্রে এক বড়সড় ক্ষত তৈরি করতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।