
পাহাড়ের রানি দার্জিলিং বরাবরই বাঙালির প্রথম পছন্দ। কিন্তু পকেটের টান থাকলে অনেকেই পিছিয়ে আসেন। তবে একটু বুদ্ধি খাটালেই মাত্র ২,০০০ টাকার মধ্যে কীভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসা সম্ভব, আজ রইল সেই গোপন হদিশ। তবে কম খরচে এই ট্রিপ সফল করতে হলে ট্রেনের জেনারেল কামরায় টিকিট কাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কোন ট্রেনে চাপবেন?
শিয়ালদা বা হাওড়ার চেনা ভিড় এড়িয়ে আপনি বেছে নিতে পারেন কলকাতা স্টেশনকে। এখান থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) যাওয়ার জন্য সবথেকে সস্তা এবং সেরা ট্রেন হলো ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস। সকালের দিকে যে ক’টি ট্রেন উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, তার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা। সপ্তাহে তিন দিন, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার ঠিক সকাল ৯টা বেজে ৫ মিনিটে কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়ে এই ট্রেন। আর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আপনাকে পৌঁছে দেবে এনজেপি। বাজেট ট্রিপের জন্য এর চেয়ে ভালো বিকল্প আর হয় না। এই ট্রেনের সেকেন্ড ক্লাসের ভাড়া মাত্র ২৩০ টাকা। যেহেতু আমাদের লক্ষ্য বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্যুর, তাই সেকেন্ড ক্লাসে যাতায়াত করলে শিলিগুড়ি পর্যন্ত আসা-যাওয়া মিলিয়ে মোট খরচ হবে মাত্র ৪৬০ টাকা।
এনজেপি থেকে ২০টাকা অটো-টোটো ভাড়া দিয়ে চলে যান শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য ১০টি বাস চলে। যে কোনও একটি বাসে উঠে পড়লেই হলো, মাথাপিছু মাত্র ১০৫ টাকা ভাড়ায় সোজা পৌঁছে যাবেন মেঘেদের দেশে। অর্থাৎ, বাসে যাতায়াত বাবদ মোট খরচ ২১০ টাকা।
থাকার কথা
দার্জিলিং পৌঁছে এবার খোঁজা দরকার থাকার জায়গা। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলি সহজেই ঘুরে দেখার জন্য ম্যাল রোডের কাছাকাছি হোটেল বুক করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। কম খরচে থাকার জন্য এখানে রয়েছে ইয়ুথ হোস্টেল। আর যদি পরিবার বা প্রিয়জনকে নিয়ে একটু আরামে থাকতে চান, তবে ম্যালের আশেপাশেই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন ভালো রুম। তিন দিনের জন্য হোটেল ভাড়া বাবদ খরচ হবে বড়জোর ১২০০ টাকা।
খাওয়ার খরচ
খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও নামী রেস্তোরাঁ এড়িয়ে রাস্তার ধারের দোকান বা স্ট্রিট ফুড ট্রাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দার্জিলিংয়ের বেশিরভাগ হোটেলেই আলাদা করে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তবে রাস্তার ধারের ছোট ছোট দোকানে দারুন সব স্থানীয় খাবার বেশ সস্তায় মেলে। প্রতিদিন মাথাপিছু ২০০ টাকা করে ধরলে তিন দিনে খাওয়ার খরচ দাঁড়াবে মোটে ৬০০ টাকা।
কীভাবে ঘুরবেন?
এবার আসা যাক ঘোরার প্রসঙ্গে। যেহেতু আপনার হোটেলটি ম্যাল রোডের কাছাকাছি, তাই ম্যাল রোড ও চৌরাস্তার মতো চমৎকার জায়গাগুলি কোনো খরচ ছাড়াই পায়ে হেঁটে ঘুরে নিতে পারবেন। এছাড়া স্থানীয় শেয়ার গাড়ি বুক করে সহজেই দেখে আসতে পারেন মহাকাল মন্দির, বাতাসিয়া লুপ, ঘুম মনাস্ট্রি এবং হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট। এর বেশি ঘুরতে গেলে গাড়ি বুক করতে হবে, তাতে এই বাজেটে হবে না।
এক নজরে খরচের হিসেবটা মিলিয়ে নেওয়া যাক, ট্রেনের আসা-যাওয়ার টিকিট ৪৬০ টাকা, এনজেপি থেকে বাসে যাতায়াত ২১০ টাকা, তিন দিনের হোটেল ভাড়া ১২০০ টাকা এবং খাওয়ার খরচ ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে ঘোরাঘুরি ও টুকটাক আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ২,০০০ টাকার মধ্যেই রাজকীয় মেজাজে ঘুরে আসতে পারবেন দার্জিলিং।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কেনাকাটা করলে কোনও বাজেটেই কুলোবে না। তাই কেনাকাটা বাদ।