
গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা শহরবাসীর। বিকেল হলে অনেকেরই ইচ্ছে হয়, একটু খোলা হাওয়ায় বেরিয়ে আসতে। নিরিবিলি সময় প্রকৃতির কোলে কাটাতে পছন্দ করেন বহু প্রকৃতিপ্রেমীই। তাঁদের জন্য সেরা অপশন হতে পারে কলকাতা থেকে মাত্র ৬০-৭০ কিমি দূরে অবস্থিতি 'মিনি দিঘা'।
গরমের দাপট একটু কমলেই দিনের দিনে ঘুরে আসতে পারেন এই উলুবেড়িয়ার বেলারির এই মিনি দিঘা-তে। এমনকি হাতে সময় কম থাকলে সারা দিন দরকার নেই। একটুকরো বিকেল মনোমুগ্ধকর করে তুলতে বেলারি-র জুড়ি মেলা ভার।
বেলারি-র মিনি দিঘায় কী রয়েছে?
বেলারি এখন রীতিমতো ভাইরাল ট্যুরিস্ট স্পট। একেবারে গ্রাম্য পরিবেশের মধ্যে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এটি সেরা এলাকা। নদীর পাড়ের এলাকা ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে রীতিমতো দিঘার অনুভূতি মনে করায় বলেই এই এলাকার স্থানীয় নাম 'মিনি দিঘা'।
নদীর পাশেই রয়েছে বিস্তীর্ণ ঘাসের এলাকা। যেখানে বসে নদীর দিকে তাকিয়ে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। এছাড়াও, পাশেই রয়েছে লম্বা লম্বা গাছ। যা দিঘার ঝাউবনের 'ফিল' নিয়ে আসতে পারে। বিকেলে হালকা স্ন্যাকস আইটেম হিসেবে নদীর পাশে বিচে পাওয়া যায় নানা হালকা খাবারের পদও। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদীর পাড়ে বসে পিকনিকও করতে পারেন কলকাতা বা দূর থেকে আসা ব্যক্তিরা। সেক্ষেত্রে অবশ্য রান্নার সরঞ্জাম নিয়ে আসতে হবে নিজেদেরকেই।
কীভাবে যাবেন?
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া খড়্গপুর ডিভিশনে উলুবেড়িয়া স্টেশন থেকে বা ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এসে উলুবেড়িয়া নরেন্দ্র মোড় থেকে পূর্ব দিকে কয়েক কিলোমিটার গেলেই বেলাড়ি। উলুবেড়িয়া থেকে শ্যামপুর যাওয়ার রাস্তায় বেলাড়ি মোড় থেকে বাঁদিকে কয়েক মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাওয়া যায় নদীর পাড়ে। এছাড়াও, কলকাতা থেকে বাইকে করে মাত্র ৯০-১০০ মিনিটে পৌঁছনো যায় এই এলাকায়।
বেলারি- মিনি দিঘা- যাওয়ার আদর্শ সময় কখন?
বছরের যে কোনও সময়ই উলুবেড়িয়ার বেলারি-তে যাওয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় বর্ষাকালে গেলে। সবুজ অরণ্যের, জলাভূমি, নদী পাড়ের মজাই তখন হয় আলাদা। আর শীতকালে মিঠে রোদ ও হিমেল পরশে ঘুরে বেড়ানো আবার আরেক রকম অভিজ্ঞতা।