
Hill Stations That Look Like Scotland: মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়, পাইন বনের সুবাস, ভিক্টোরিয়ান আমলের স্থাপত্য আর কুয়াশার চাদর মোড়া রাস্তা, এক ঝলক দেখলে মনে হবে আপনি হয়তো ইউরোপের কোনও স্কটিশ হাইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন! কিন্তু না, স্কটল্যান্ডের এই অসামান্য রূপ উপভোগ করতে পকেট খালি করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশেই লুকিয়ে রয়েছে এমন ৫টি অনবদ্য হিল স্টেশন, যা রূপের দিক থেকে হুবহু স্কটল্যান্ডের মতো হলেও খরচের দিক থেকে দিল্লির একটা সাধারণ নামী রেস্তোরাঁ বা বিলাসবহুল উইকেন্ড ট্যুরের চেয়েও অনেক সস্তা। কম বাজেটে রাজকীয় ভ্রমণের এই ৫টি সেরা ঠিকানা রইল আপনাদের জন্য:
১. কুর্গ (Coorg)
দক্ষিণ ভারতের এই রূপসী পার্বত্য অঞ্চলটিকে এমনি এমনি ‘ভারতের স্কটল্যান্ড’ বলা হয় না। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ পাহাড়ের চড়াই-উতরাই, মায়াবী কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া আর কফি বাগানের সুবাস— এই জায়গার প্রধান ইউএসপি (USP)। সারা বছরই এখানকার আবহাওয়া থাকে মনোরম ও ঠান্ডা। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে থাকার জন্য প্রচুর পকেট-বান্ধব হোমস্টে এবং গেস্টহাউস রয়েছে। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য দৈনিক খরচ মাত্র ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যেই হয়ে যায়। এখানকার অ্যাবে ফলস, রাজার সিট এবং বিস্তীর্ণ কফি বাগানে হেঁটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে রাখার মতো।
২. ল্যান্সডাউন
উত্তরাখণ্ডের এই শান্ত ও ছিমছাম ক্যান্টনমেন্ট শহরটি চারদিক থেকে পাইন বনে ঘেরা। এখানকার ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটিশ স্থাপত্য এবং শান্ত নির্জন পরিবেশ হুবহু স্কটল্যান্ডের গ্রামীণ মফস্বল এলাকাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যান্য চেনা পাহাড়ি শহরের মতো এখানে এখনও বাণিজ্যিকীকরণের কালো ছায়া পড়েনি, তাই ভিড়ভাট্টাও অনেক কম। মাত্র ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকার বাজেটের মধ্যেই এখানে একটি দুর্দান্ত উইকেন্ড ট্রিপ অনায়াসে সেরে ফেলা সম্ভব। এখানকার ভুল্লা লেক, টিপ-ইন-টপ ভিউ পয়েন্ট এবং পাইন বনের নির্জন পথ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।
৩. কসৌলি
হিমাচল প্রদেশের কসৌলি বিখ্যাত তার ব্রিটিশ আমলের নান্দনিক ঐতিহ্য এবং মেঘ-কুয়াশার লুকোচুরির জন্য। এখানকার শান্ত আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং পুরনো স্থাপত্যে ইউরোপীয় কান্ট্রিসাইডের ছোঁয়া স্পষ্ট। অন্যান্য বড় ট্যুরিস্ট স্পটের চেয়ে কসৌলি যেমন শান্ত, তেমনই সস্তা। মাত্র ২,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকার খরচেই এখানকার একটি ছোট ট্যুর অনায়াসে প্ল্যান করা যায়। সানসেট পয়েন্ট, গিলবার্ট ট্রেল এবং ক্রাইস্ট চার্চ এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
৪. কালিম্পং
আমাদের বাংলার এই শৈলশহরটি সবুজ পাহাড়, প্রাচীন মনাস্ট্রি, অর্কিডের নার্সারি আর কুয়াশা ঘেরা উপত্যকার এক অপরূপ কোলাজ। বিশেষ করে বর্ষা এবং শীতের মরশুমে কালিম্পংয়ের ল্যান্ডস্কেপ পুরোপুরি স্কটিশ হাইল্যান্ডের রূপ ধারণ করে। পাশের রাজ্য বা প্রতিবেশী দার্জিলিংয়ের তুলনায় কালিম্পং অনেকটাই সস্তা ও শান্ত। কমদামি বাজেট হোটেল, স্থানীয় সুস্বাদু খাবার এবং শেয়ার গাড়ির যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এখানে পকেটে টান পড়ার কোনও আশঙ্কাই নেই। শান্ত মনে পাহাড়ি রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো আর ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আনন্দ এখানে ভরপুর।
৫. ডালহৌসি
পাইন ও দেবদারু বনে ঘেরা ডালহৌসি তার ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ব্রিটিশ স্থাপত্যের জন্য সুপরিচিত। এখানকার বিস্তীর্ণ সবুজ তৃণভূমি (মেডোজ) এবং পাহাড়ি বাঁকানো রাস্তা পর্যটকদের বারবার স্কটল্যান্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রিমিয়াম বা বিলাসবহুল পাহাড়ি জায়গার তুলনায় এখানে থাকার খরচ অনেকটাই সাধ্যের মধ্যে। দৈনিক ১,৪০০ থেকে ২,০০০ টাকা খরচ করলেই একজন বাজেট ট্রাভেলার অনায়াসে এখানে ঘুরে বেড়াতে পারেন। কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মিনি সুইজারল্যান্ড খ্যাত খাজ্জিয়ার, পাঞ্চপুলা জলপ্রপাত এবং সেন্ট জনস চার্চ।
দিল্লির চেয়েও কেন সস্তা এই ট্যুর?
হিসাবটা খুবই সহজ। এই পাঁচটি জায়গাতেই বিলাসবহুল হোটেলের পাশাপাশি প্রচুর সস্তা গেস্টহাউস ও লোকাল হোমস্টে পাওয়া যায়। মেট্রো সিটির নামী রেস্তোরাঁর চেয়ে এখানকার স্থানীয় হোটেলের খাবারের খরচ অনেক কম। সবচেয়ে বড় কথা, এখানকার বেশিরভাগ আকর্ষণই হলো প্রকৃতির দান। যার সৌন্দর্য উপভোগ করতে কোনও টিকিট লাগে না বা নামমাত্র খরচ হয়। বাস বা শেয়ার জিপের মতো লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলে যাতায়াত খরচ এক ধাক্কায় কমে যায়। তাই দিল্লির নামী মলে বা সেন্ট্রাল দিল্লিতে একটা প্রিমিয়াম উইকেন্ড কাটানোর চেয়ে এই সমস্ত পাহাড়ি সুন্দরীদের কোলে ২-৩ দিন কাটানো ঢের বেশি সাশ্রয়ী ও শান্তির।