
বর্ষাকাল আসতেই ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করেছে বর্তির বিল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এই লোকেশন এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অন্যতম গন্তব্য। অগাস্ট মাস থেকে শুরু হয়ে অক্টোবর-নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে এই ট্রেন্ড। জেন জি থেকে শুরু করে মিলেনিয়াল-সকলেই একটুকরো প্রকৃতিকে দেখতে ছুটির দিন চাইছেন বর্তির বিলে যেতে।
আসলে বারাসত, নীলগঞ্জ পেরিয়ে একটি গ্রামের শেষে রয়েছে এই বিশাল বিল। বিলে অগাস্ট থেকেই ফুটে থাকে অসংখ্য শাপলা ফুল। পুজোর আগে আগে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পদ্ম ফোটে বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। বর্তির বিলে গিয়ে নৌকোয় চড়ে সফর করতে পারেন পর্যটকেরা। স্থানীয় মাঝিরাই রঙিন নৌকা নিয়ে শাপলা ফুলের ঝাঁকের মাঝখান দিয়ে পর্যটকদের ঘুরিয়ে আনেন।
বিলের রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি চা, কফির দোকানও। সেখানে অর্ডার দিয়ে রাখলে দুপুরের খাবারও পাওয়া যেতে পারে। তাই একদিনের ছুটিতে প্রকৃতি উপভোগ করতে হাতের কাছের জায়গা হিসেবে বর্তির বিলের জুড়ি মেলা ভার।
কলকাতা থেকে বর্তির বিল যেতে চাইলে মূলত দু'ভাবে বর্তির বিলে আসা যেতে পারে। একটি শিয়ালদা-বনগাঁ লাইনের বারাসত স্টেশন হয়ে ও অপরটি মেন লাইনের বারাকপুর স্টেশন হয়ে।
বারাসত স্টেশন থেকে বর্তির বিল আসতে হলে প্রথমে টোটো ধরে আসতে হবে হেলা বটতলা। সেখান থেকে অটো ধরে আসতে হবে নীলগঞ্জ মোড়। এই মোড় থেকে টোটো রিজার্ভ করে পৌঁছনো যাবে বর্তির বিল।
বারাকপুর হয়ে আসতে হলে বারাকপুর স্টেশনের সামনে থেকেই বারাসতমুখী অটো ধরে নামতে হবে নীলগঞ্জ মোড়। এই মোড় থেকে ফের টোটো রিজার্ভ করে পৌঁছনো যাবে বর্তির বিল।
বর্তির বিলে নির্দিষ্ট নৌকা ভাড়া নেই। সাধারণত স্থানীয়রাই ওই বিলে নৌকা পরিষেবা দেন। সাধারণত ৩০ মিনিট নৌকা চড়ার জন্য মাথাপিছু ১৫০-২০০ টাকা দাবি করেন মাঝিরা। তবে দরদাম করলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। এক্ষেত্রে দলে ৪-৫ জন লোক থাকলেই সুবিধা। তাতে নৌকা ভাড়া কম হতে পারে।
না। বর্তির বিলে রাতে থাকার কোনও জায়গা নেই। সকাল থেকে গিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার আগে পর্যন্তই বর্তির বিলের সৌন্দর্য থাকে। তবে ভিড়ের বেশি অংশই হয় বিকেল থেকে। ফটোগ্রাফার, প্রি ওয়েডিং-শ্যুটের ভিড়ে ছেয়ে যায় একদা বাংলার এক অখ্যাত গ্রামের আরও এক অখ্যাত বিল- বর্তির বিল।