
Dooars Tourism Updates 2026: ঘন সবুজে মোড়া ডুয়ার্সের জঙ্গল, চোখের সামনে দূর-দূরান্তে বিস্তৃত পাহাড়ের সারি আর পাইন গাছের মেলা। মাঝেসাঝেই নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসে বুনো হাতির ডাক। ঠিক এমন এক মায়াবী পরিবেশের টানেই বারবার উত্তরবঙ্গে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে গত কয়েক বছর ধরে ডুয়ার্সের অন্যতম সেরা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন পর্যটকেরা। করোনার সময় থেকেই তালা ঝুলছিল ডুয়ার্সের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি বনবাংলোয়। অবশেষে কাটল সেই খরা। সূত্রের খবর, আসন্ন দুর্গাপুজোর মরশুম শুরুর আগেই পর্যটকদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে ‘বিছাভাঙা হর্নবিল’ এবং ‘রামসাই রাইনো ক্যাম্প’। শুধু তাই নয়, জঙ্গল ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে বনদফতরের তরফে আনা হচ্ছে অতিরিক্ত একটি সাফারি হাতিও।
দীর্ঘ ৫ বছর পর কাটল জট, সংস্কারের কাজ শেষপর্যায়ে
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোরুমারা সাউথ রেঞ্জের অন্তর্গত বিছাভাঙা হর্নবিল এবং রামসাই রাইনো ক্যাম্প দুটি দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে জঙ্গলের একেবারে গভীরে বুক চিরে রাত্রিবাসের রোমাঞ্চকর সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল ভ্রমণপিপাসুদের। এই দুই জনপ্রিয় কটেজ পুনরায় চালু করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো দাবি উঠছিল। অবশেষে সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সবুজ সংকেত দিল বনদফতর। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও (ADFO) রাজীব দে জানিয়েছেন, পুজোর আগেই গোরুমারার রামসাই রাইনো ক্যাম্প ও বিছাভাঙা হর্নবিলের কটেজগুলো পর্যটকদের জন্য নতুন রূপে খুলে দেওয়া হবে। কটেজগুলি সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় শেষপর্যায়ে চলে এসেছে।
বাড়ছে হাতি সাফারির রোমাঞ্চ, খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা
কটেজ খোলার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য আরও একটি বড় সারপ্রাইজ দিচ্ছে বনদফতর। হাতি সাফারির জন্য লাটাগুড়িতে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি নতুন হাতি। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই এই হাতিটিকে সাফারির কাজে নামানো হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, বছর তিনেক আগে গোরুমারায় সাফারি আরও মজবুত করতে ‘জেনি’ এবং ‘মাধুরী’ নামে দুটি হাতিকে আনা হয়েছিল। তার আগে থেকেই একটি হাতি এই কাজে নিযুক্ত ছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে লাটাগুড়িতে মোট চারটি হাতি সাফারির ডিউটি সামলাচ্ছে। নতুন হাতিটি আসায় সাফারির পরিধি আরও বাড়বে। এডিএফও রাজীব বাবু জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে মোট ১৬ জন পর্যটক হাতি সাফারি করার সুযোগ পান, নতুন হাতি এলে এই সংখ্যাটা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। তবে ভবিষ্যতে ডুয়ার্সে আরও হাতি আনা হবে কি না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
বনদফতর এই জোড়া মাস্টারস্ট্রোকে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গের পর্যটন মহলে। এতে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসা একধাক্কায় অনেকটাই চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, পুজোর ঠিক মুখে বনদফতরের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায় দারুণ সাড়া ফেলবে এবং এর ফলে বুকিংয়ের গ্রাফ অনেকটাই উর্ধ্বমুখী হবে।
এক নজরে ডুয়ার্সের নতুন ধামাকা
কী খুলছে: গোরুমারা সাউথ রেঞ্জের বিছাভাঙা হর্নবিল এবং রামসাই রাইনো ক্যাম্প কটেজ।
কবে খুলছে: আসন্ন দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই।
বাড়তি পাওনা: আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সাফারিতে যোগ দিচ্ছে আরও ১টি নতুন হাতি, ফলে সাফারির সিট সংখ্যা বাড়ছে।