
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে একটু রেহাই পেতে এবং ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে দেশের পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। মানালি, শিমলা, ধর্মশালা থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ও চামোলির মতো এলাকায় তুষারপাত ও মনোরম আবহাওয়ার টানে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।
সমতলের চড়া রোদ আর গরমের হাত থেকে বাঁচতে প্রতি বছরই এই সময়ে পাহাড়ের দিকে ছোটেন আপামোর পর্যটকপ্রেমী মানুষ। তবে এবারের ভিড় আগের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। পর্যটকদের এই বিপুল সমাগমের কারণে পাহাড়ি শহরগুলির হোটেল, লজ এবং হোমস্টেগুলিতে কোনও ঘর খালি নেই বললেই চলে। আচমকা এই বিপুল পর্যটকের চাপে পার্বত্য অঞ্চলের ট্রাফিক ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ গাড়ির লাইন লেগে রয়েছে যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক উভয়কেই চরম যানজটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
হিমাচলের মানালি এবং শিমলার রাস্তায় গাড়ির চাকা যেন আর ঘুরতেই চাইছে না। হোটেল বুকিং না করে যারা স্রেফ উইকএন্ড কাটাতে পাহাড়ে পৌঁছেছেন তাদের অনেককেই চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধাম এবং চামোলি জেলাতেও চারধাম যাত্রার পুণ্যার্থী ও সাধারণ পর্যটকদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবশ্য পর্যটকদের এই ঢলে দারুণ খুশি কারণ গত কয়েক বছরের মন্দা কাটিয়ে পর্যটন ব্যবসায় আবার জোয়ার এসেছে। তবে একই সাথে উপচে পড়া এই ভিড় সামাল দিতে এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পর্যটকদের আগে থেকে হোটেল বুকিং করে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। গরমের ছুটি আরও কিছুদিন থাকায় পাহাড়ের এই রমরমা চটজলদি কমবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।