
Manebhanjan To Sandakphu Distance: উত্তরবঙ্গের পাহাড়প্রেমীদের কাছে সান্দাকফু ট্রেকের নাম নতুন নয়। তবে এই স্বপ্নযাত্রার আসল শুরু হয় ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ মানেভঞ্জন থেকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৩০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শান্ত গ্রামটি একদিকে যেমন সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশদ্বার, তেমনই সান্দাকফু ও ফালুট ভ্রমণের প্রধান বেস ক্যাম্প। চারপাশে পাইন, ওক ও রডোডেনড্রনের জঙ্গল, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর নিরিবিলি পরিবেশ মানেভঞ্জনকে নিজেই একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
কীভাবে পৌঁছবেন?
শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে মানেভঞ্জনের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। এনজেপি, বাগডোগরা বিমানবন্দর কিংবা দার্জিলিং থেকে শেয়ার জিপ এবং রিজার্ভ গাড়ি দুই ধরনের পরিবহণই পাওয়া যায়। রাস্তার শেষ অংশ পাহাড়ি হলেও দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম।
কোথায় থাকবেন?
মানেভঞ্জনে সরকারি ট্রেকার্স হাট, জিটিএ-র লজ, হোমস্টে এবং একাধিক বাজেট ও মিড-রেঞ্জ হোটেল রয়েছে। সাধারণ হোমস্টেতে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকা যায়। মাঝারি মানের হোটেলের ভাড়া ১,৮০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অধিকাংশ আবাসনেই গরম জল, খাবার এবং স্থানীয় গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে।
খাওয়া-দাওয়ার খরচ
স্থানীয় হোটেল ও হোমস্টেতে ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা চিকেন মিল সহজেই পাওয়া যায়। একটি সাধারণ মিলের খরচ ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। সকালের নাস্তা ১০০ থেকে ২০০ টাকায় সেরে নেওয়া সম্ভব।
মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু কীভাবে যাবেন?
মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফুর দূরত্ব প্রায় ৩১ কিলোমিটার। এই পথ দুইভাবে অতিক্রম করা যায়। ট্রেকিং অথবা চার-চাকা ল্যান্ড রোভার/বোলেরো গাড়িতে।
অভিযানপ্রেমীদের জন্য ট্রেকই সবচেয়ে জনপ্রিয়। সাধারণত ২ থেকে ৩ দিনে টংলু, কালিপোখরি বা গারিবাস হয়ে সান্দাকফু পৌঁছানো হয়। পথে সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের অপরূপ বন, বিরল পাখি এবং পরিষ্কার আবহাওয়ায় বিশ্বের চারটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে ও মাকালুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।
যাঁরা ট্রেক করতে চান না, তাঁদের জন্য মানেভঞ্জন থেকে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ আমলের ল্যান্ড রোভার পরিষেবা রয়েছে। এছাড়াও বোলেরো বা স্থানীয় চার-চাকা গাড়িও ভাড়া পাওয়া যায়। গাড়িতে যেতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। গাড়ির ভাড়া মৌসুম ও যাত্রীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে সাধারণত ৫,৫০০ থেকে ৮,৫০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
একদিনে ঘুরে আসা সম্ভব?
ভোরে মানেভঞ্জন থেকে গাড়িতে রওনা দিয়ে সান্দাকফু পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে একই দিনে বিকেলের মধ্যে আবার মানেভঞ্জনে ফিরে আসা যায়। তবে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং হিমালয়ের পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে সান্দাকফুতে অন্তত এক রাত থাকার পরামর্শ দেন অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীরা।
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশে তুষারশৃঙ্গ দেখার সেরা সুযোগ থাকে। অন্যদিকে মার্চ থেকে মে মাসে রডোডেনড্রনের রঙিন ফুলে সেজে ওঠে গোটা সিঙ্গালিলা অঞ্চল। বর্ষাকালে ভূমিধস ও কুয়াশার কারণে ভ্রমণে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।
সান্দাকফুর পথে শুধু একটি যাত্রাবিরতি নয়, মানেভঞ্জন নিজেই পাহাড়ি সৌন্দর্য, আতিথেয়তা ও শান্ত পরিবেশের এক অনন্য ঠিকানা। তাই সান্দাকফু অভিযানের পরিকল্পনা করলে এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদে অন্তত একদিন সময় রাখলে ভ্রমণের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।