
India-Nepal Tourism: রাজনীতিতে সীমান্ত থাকলেও পর্যটনে নেই, শুক্রবার ঝাপার মেচি ক্রাউন হোটেলের আসর যেন সে কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড এবং কাঁকরভিটা পর্যটন দফতরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হল ‘ক্রস-বর্ডার ট্যুরিজম কনক্লেভ ২০২৬’। লক্ষ্য একটাই, ভারত ও নেপালের পর্যটন শিল্পকে এক সুতোয় গাঁথা এবং লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে দুই দেশের পর্যটকদের জন্য পথ আরও মসৃণ করা।
এদিনের আলোচনায় কোশি প্রদেশের বিধায়ক গোপাল তামাং আক্ষেপের সুরে বলেন, নেপালের পর্যটনের প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও পরিকাঠামো আর সরকারি উদাসীনতায় অনেক কাজ আটকে যাচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, ঝাপাকে যদি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে শুধু পরিকল্পনা নয়, কাজেও গতি আনতে হবে। পর্যটকদের সঙ্গে ব্যবহারের ধরণ পাল্টানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
কাঁকরভিটা ইমিগ্রেশন অফিসের প্রধান তুলসী ভট্টরাই এক আশাব্যাঞ্জক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুধুমাত্র ফাল্গুন মাসেই এই সীমান্ত দিয়ে ১০০০-এর বেশি বিদেশি পর্যটক নেপালে ঢুকেছেন। চলতি আর্থিক বছরে এই সংখ্যা ৯০০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সিনিয়র ম্যানেজার সূর্য থাপালিয়া অকপটে স্বীকার করেন, ভারতের বিশাল বাজারকে ধরার ক্ষেত্রে নেপাল কিছুটা ধীর গতিতে চলছে। তাঁর মতে, বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ ভারতীয় পর্যটক নেপালে আসেন, অথচ এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মতো পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি।
কনক্লেভে উপস্থিত হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (HHTDN)-এর সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ভারত ও নেপালকে আলাদাভাবে নয়, বরং যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা উচিত। আগামী দিনে নির্মীয়মাণ 'এশিয়ান হাইওয়ে' এই অঞ্চলের পর্যটনে বিপ্লব আনবে বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।
এদিনের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল নেপাল ও ভারতের পর্যটন সংস্থাগুলোর মধ্যে মউ (MoU) স্বাক্ষর। যার ফলে দু’দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীরা এখন থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন। সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে ভিডিও প্রদর্শনীর পাশাপাশি কোশি প্রদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীও পর্যটন মহলের নজর কেড়েছে। সব মিলিয়ে, ফুলকপি হোক বা অন্য কিছু, প্রতীকের লড়াই সরিয়ে রেখে পর্যটনের জোয়ার আনাই এখন মূল লক্ষ্য দুই প্রতিবেশী দেশের।