
Paparkheti Dooars Travel: বর্ষার মেঘলা দিনে দু-তিন দিনের একটা ছোট্ট ছুটির খোঁজ করছেন অনেকেই। আপনিও কি সেই দলে। কিন্তু বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাঘুরিতে একটু ঝুঁকি নিতে হয়। কারণ পাহাড়ি রাস্তা ও এলাকা থাকে বিপজ্জনক। তাই ঘুরতে গেলেও ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে চান অনেকে। দার্জিলিং-সিকিম এড়িয়ে ডুয়ার্সের পাহাড় কিন্তু অনেকটাই নিরাপদ। ডুয়ার্সের বুক চিরে যদি কোনও শান্ত আর অফবিট পাহাড়ি গ্রামের হদিশ চান তবে আপনার জন্য সেরা ঠিকানা হতে পারে ‘পাপরখেতি’।
এমনিতে বর্ষার মরশুমে ডুয়ার্সের জঙ্গল আর পাহাড় এক ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ ধারণ করে। চারিদিকের সবুজ যেন আরও গাঢ় আর আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ঠিক এমনই এক আদিম মাদকতায় ঘেরা নতুন অফবিট ডেস্টিনেশন হল উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার গরুবাথানের কাছের এই ছিমছাম গ্রাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই গ্রামে এখনও পর্যটকদের তেমন ভিড় জমেনি।
গরুবাথান থেকে লাভা যাওয়ার রাস্তায় পড়া এই জনপদে এলে আপনার মন এবং শরীর দুইই জুড়িয়ে যাবে। শিলিগুড়ি থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। গরুবাথানের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে চলা চেল নদী আপনাকে এক অনন্য অনুভূতি দেবে। চোখের সামনে সুউচ্চ পাহাড় আর ঘন জঙ্গল ঘেরা এই পাপরখেতি মূলত একটি মনোরম পিকনিক স্পট। সামান্য এন্ট্রি ফি দিয়ে এখানে ঢুকলেই দেখা মিলবে বয়ে চলা সুন্দর নদী আর পাহাড়ি পাথরের কোলাজ। এই নদীর ঠাণ্ডা জলে পা ডুবিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায়।
মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরিকে সঙ্গী করে শিলিগুড়ি থেকে দুইভাবে এখানে আসা যায়। একটি পথ গিয়েছে সেবক হয়ে আর অন্যটি গাজলডোবা দিয়ে। সেবক হয়ে এলে দূরত্ব পড়বে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার মতো। শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় প্রকৃতির এই অনাবিল আশ্রয়ে। পাহাড় আর নদীর এই যুগলবন্দি দেখলে আপনি ভাবতেই বাধ্য হবেন যে কেন আগে এখানে আসেননি।