
Paparkheti Offbeat Tour Kalimpong: বর্ষার দিনগুলোতে মনটা একটু অন্যরকম ছুটির খোঁজে থাকে। কাজের চাপ আর শহরের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকেই এমন একটা জায়গার সন্ধান করেন যেখানে থাকবে শুধুই নিরিবিলি পরিবেশ আর প্রকৃতির স্পর্শ। আপনিও কি বর্ষায় দুদিনের ছুটির জন্য এমন কোনও সুন্দর অফবিট গন্তব্য খুঁজছেন। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার কোল ঘেঁষে থাকা এক ছোট্ট স্বর্গরাজ্য পাপরখেতি আপনার এই ছুটির জন্য সেরা ঠিকানা হতে পারে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০০ ফুট উঁচুতে গরুবাথানের কাছে অবস্থিত এই ছিমছাম পাহাড়ি গ্রামটি এখনও পর্যটকদের নজর থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে। এখানে এলে আপনার মন ও শরীর দুই জুড়িয়ে যাবে। সেই সঙ্গে আপনার মনে হতেই পারে যে কেন আপনি এতদিন এই অসাধারণ জায়গায় আসেননি।
বর্ষার ডুয়ার্স এবং পাপরখেতির রূপ
বর্ষার মরশুমে ডুয়ার্স তার এক ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ ধারণ করে। বর্ষায় উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলো আরও বেশি সবুজ এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। চারিদিকে থাকে এক অন্যরকম মাতাল করা পরিবেশ যা মানুষকে প্রকৃতির আদিম রূপের কাছে নিয়ে যায়। গোরুবাথান থেকে লাভা যাওয়ার পাহাড়ি রাস্তায় পড়ে এই পাপরখেতি গ্রাম। মেঘ আর বৃষ্টির দোলাচলের মধ্যে এই সময়ে অনায়াসে পাপরখেতি ঘুরে আসা যায়। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গরুবাথানের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে চলেছে চেল নদী। নদীর এই বহমান জলধারা আপনাকে এক অদ্ভুত আনন্দ দেবে। এর সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে মিলবে সুবিশাল পাহাড় আর ঘন সবুজ জঙ্গল।
পাপরখেতিতে কী দেখবেন এবং কীভাবে কাটাবেন সময়
পাপরখেতি মূলত একটি পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত। এই সুন্দর এলাকায় প্রবেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট এন্ট্রি ফি দিতে হয়। এখানে প্রবেশ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে পাথর ছুঁয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি নদী। নদীর ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে এক জায়গায় বসে কাটিয়ে দেওয়া যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার জন্য এর চেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না।
কীভাবে পৌঁছাবেন এই অফবিট স্বর্গে
শিলিগুড়ি থেকে পাপরখেতি যাওয়ার দুটি সুন্দর রুট রয়েছে। প্রথম পথটি হলো বিখ্যাত সেবক রোড হয়ে। এই পথে গেলে মোট দূরত্ব হবে প্রায় ৬৫ কিলোমিটারের মতো। অন্য পথটি গেছে গাজলডোবার উপর দিয়ে। শিলিগুড়ি থেকে সহজেই গাড়ি ভাড়া করে আপনি সরাসরি এই নৈসর্গিক গ্রামে পৌঁছে যেতে পারবেন।
থাকার জায়গা এবং খরচের হিসাব
পাপরখেতি যেহেতু একদমই নতুন এবং অফবিট একটি জায়গা তাই এখানে বিশাল বড় বড় হোটেল বা রিসোর্ট নেই। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো স্থানীয় পাহাড়িদের তৈরি হোমস্টে। হোমস্টেগুলিতে থাকলে পাহাড়ি আতিথেয়তার চমৎকার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এখানে থাকা এবং খাওয়াদাওয়ার খরচ একেবারেই পকেটের সাধ্যের মধ্যে। জনপ্রতি দিনে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যেই থাকা এবং চারবেলার খাবার সুন্দরভাবে হয়ে যায়। কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি পৌঁছানোর ট্রেন ভাড়া বা বাস ভাড়ার ওপর আপনার যাতায়াতের মোট খরচ নির্ভর করবে। অল্প খরচে প্রকৃতির কোলে দুদিন কাটানোর জন্য এটি একদম উপযুক্ত জায়গা।