
Siliguri Bengal Safari Park Royal Bengal: গত ১২ জুলাই শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে দুটি শাবকের জন্ম দেয় সাদা বাঘ কিকা। ১৩ জুলাই অর্থাৎ পরদিন সকালেই একটি শাবকের মৃত্যু হয়। সেই সময় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা কোনওভাবে প্রকাশ্যে চলে আসে। যা নিয়ে পড়ে অনেক জল ঘোলা হয় এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে বেশ কিছু কর্মী ছাটাই করা হয়। এবার মাসখানেক বাদে ফের কিকার দ্বিতীয় সন্তান শাবকটিরও ও মৃত্যু হল। এক্ষেত্রেও অপুষ্টিজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যা নিয়ে এবার বড়সড়ো রকমের প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গিয়েছে বেঙ্গল সাফারি পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের উপর। যদিও এ নিয়ে বাইরে মুখ খুলছেন না পার্ক কর্তারা।
সাফারি পার্ক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে বেশ কয়েকদিন ধরেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল সাদা বাঘ কিকার এই দ্বিতীয় শাবকটি। মায়ের দুধ পান করছিল না বলে অপুষ্টিজনিত রোগ বাসা বাঁধে। কিন্তু তারপরেও তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি কেন, বা চিকিৎসায় সুস্থ করা গেল না কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রথম কোনও রয়েল বেঙ্গল এর সব কটি সাবকেরই মৃত্যু হল সাফারি পার্কে। বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গিয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তবে বাকি রক্ষণাবেক্ষণে কোনওরকম গাফিলতি নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি নিজে মনিটরিং করছেন বলে দাবি করেছেন।
তবে বারবার ব্যাঘ্র শাবকের মৃত্যু হলে কেন্দ্রীয় যুব অথরিটি থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রাখার অনুমতি বাতিল করা হবে না তো? এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে সাফারি পার্কের আনাচে-কানাচে। পাশাপাশি সিংহ, জেব্রা সহ একাধিক নতুন বন্যপ্রাণী আনার পরিকল্পনা করছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ বলে জানানো হয়েছে। এভাবে যদি পার্কে থাকা পুরনো প্রাণীদেরই মৃত্যু হয় এবং পরিচর্যার গাফিলতি তৈরি হয়, তাহলে নতুন প্রাণী আনা বা এনে বাঁচানো সম্ভব হবে কিনা তা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
গত ১২ জুলাই সাফারি পার্কে দুটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল কিকা। তার মধ্যে একটি মৃত ছিল বলে পার্ক সূত্রের খবর মেলে। পরে জানা যায়, মৃত নয়, পরে মারা গিয়েছে। তা নিয়ে হইচই শুরু হয়। গাফিলতির অভিযোগে বেশ কিছু কর্মী ছাঁটাই করে কর্তৃপক্ষ। তবে অন্যটি সুস্থই ছিল। তবে কী কারণে আসলে মারা গেল পরের শাবকটিও তা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে শাবকের মৃত্যুতে খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করছেন না মা কিকাও। তাকেও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
২০১৭ সালে শীলা ও স্নেহাশিস নামে দুটি বাঘকে সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। এরপরে স্নেহাশিস ও শীলা দম্পতি তিন শাবকের জন্ম দেয়। কিকা, রিকা ও ইকা। পরবর্তীতে ইকার মৃত্যু হয়। বাকি দুটি শাবক বড় হয়ে ওঠে। সেই সাদা বাঘ কিকাই এবার শাবকের জন্ম দিল। বর্তমানে কিকা ও তার শাবককে নাইট শেলটারে ২৪ ঘন্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাঁকে পর্যটকদের কাছ থেকে দূরে রাখা হবে। তারপরে ধীরে ধীরে তাদের ছাড়া হবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা নজরদারি রাখা হচ্ছে।