
ছুটিতে বেড়াতে যেতে কার না ভাল লাগে! কিন্তু পাহাড়ে মেঘ দেখা কিংবা সমুদ্রে সূর্যাস্ত উপভোগ করার আনন্দের ঠিক আগেই, যে কঠিন পরীক্ষাটি দিতে হয়, তার নাম ‘প্যাকিং’। জামাকাপড় গোছাতে বসলেই শুরু হয় আসল মাথাব্যথা। কখনও পছন্দের পোশাকটি ব্যাগে ধরানো যায় না, তো কখনও প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র রাখার পর ট্রলিব্যাগের চেন টেনে বন্ধ করাই দায় হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে তো আবার গায়ের জোরে ব্যাগের উপর বসে চাপ দিয়ে তা বন্ধ করার মরিয়া চেষ্টাও চালান। সফরের দিনগুলিতে সব জিনিসই যেহেতু জরুরি মনে হয়, তাই কোনটি নেওয়া হবে আর কোনটি বাদ যাবে— এই দ্বন্দ্বেই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
যদি প্রতিবার ভ্রমণের আগে আপনারও এমন জেরবার অবস্থা হয়, তবে আর চিন্তার কারণ নেই। ছোটখাটো একটা ব্যাগে কোন কৌশলে পাহাড়প্রমাণ জিনিসপত্র এঁটে দেওয়া যায়, তার কিছু সহজ ও স্মার্ট উপায় রইল এখানে। এই টোটকাগুলি মেনে চললে আপনার ব্যাগটি যেমন হালকা থাকবে, তেমনই জিনিসপত্রও থাকবে পরিপাটি। আগামী ট্রিপে রওনা দেওয়ার আগে অবশ্যই চোখ বুলিয়ে নিন।
১. ভাঁজ নয়, জামাকাপড় রাখুন গোল করে গুটিয়ে (রোল করে)
অধিকাংশ মানুষই সুটকেসে জামাকাপড় চিরচরিত নিয়মে ভাঁজ করে রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় ভুল। ব্যাগে বেশি জায়গা তৈরি করতে চাইলে পোশাক ভাঁজ না করে গোল করে গুটিয়ে বা ‘রোল’ করে রাখুন। এতে ব্যাগের অনেকটা জায়গা বাঁচবে এবং কাপড়ে ভাঁজ বা কুঁচকে যাওয়ার দাগও পড়বে কম। বিশেষ করে টি-শার্ট, ট্র্যাক প্যান্ট এবং জিন্সের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি জাদুর মতো কাজ করে।
২. জুতো জোড়াকেও বানান ‘লকার’
ব্যাগ বা সূটকেসের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে জুতো। কিন্তু জুতোর ভিতরের ফাঁপা অংশটিকে অনেকেই অবহেলা করেন। সেই খালি জায়গায় অনায়াসে গুঁজে দিতে পারেন মোজা, বেল্ট, চার্জার কিংবা ছোটখাটো প্রসাধন সামগ্রী। এতে ব্যাগের অবব্যবহৃত জায়গার যেমন সঠিক ব্যবহার হবে, তেমনই অন্য জিনিস রাখার জন্য বাড়তি জায়গা মিলবে।
৩. ভারী জিনিস থাকুক একদম নিচে
ব্যাগ গোছানোর একটা চাবিকাঠি হল ওজনের ভারসাম্য। ভারী জিনিসপত্র, যেমন জ্যাকেট, জুতো কিংবা মোটাসোটা জামাকাপড় সবসময় ব্যাগের নিচের দিকে রাখুন। এর উপর হালকা জিনিস সাজান। এতে ব্যাগের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং জিনিসপত্র এদিক-ওদিক ছিটকে যায় না।
৪. ‘যদি লাগে’ মানসিকতা ত্যাগ করুন
বেড়াতে যাওয়ার সময় অনেকেই ভাবেন, 'যদি এই পোশাকটা হঠাৎ কাজে লেগে যায়!' আর এই ভেবেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জামাকাপড় ব্যাগে ভরে ফেলেন। এই ভুলটি এড়িয়ে চলুন। যত দিনের সফর, ঠিক ততদিনের হিসাব কষে পোশাক বাছুন। এমন কিছু ‘আউটফিট’ নির্বাচন করুন যা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিভিন্নভাবে পরা যায় (মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ)।
৫. বড় বোতল বাদ, ছোট সাইজের টয়লেট্রিজ ব্যবহার করুন
শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ বা ময়েশ্চারাইজারের বড় বড় কন্টেইনার বা বোতল সঙ্গে নিয়ে ঘুরবেন না। বদলে ছোট ‘ট্রাভেল সাইজ’ বোতল বা পাউচ ব্যবহার করুন। বাজারে এখন ভ্রমণের জন্যই ছোট ছোট প্রসাধন সামগ্রী কিনতে পাওয়া যায়। এতে ব্যাগের অনেকটা জায়গা যেমন বাঁচে, তেমনই ব্যাগের ওজনও এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যায়।
৬. প্যাকিং কিউবসের জাদুকরী ব্যবহার
ব্যাগের ভিতর সব জিনিস ঘাঁটাঘাঁটি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে ‘প্যাকিং কিউবস’ (ছোট ছোট কাপড়ের ব্যাগ বা অর্গানাইজার) ব্যবহার করতে পারেন। অন্তর্বাস, ওষুধ, প্রসাধন কিংবা চার্জার— আলাদা আলাদা কিউবসে ভরে রাখলে ব্যাগ গোছানো যেমন সহজ হয়, তেমনই প্রয়োজনের সময় চট করে খুঁজে পাওয়া যায়।
৭. ভারী জ্যাকেট বা জুতো গায়ে গলিয়ে নিন
শীতের জায়গায় বেড়াতে গেলে ভারী জ্যাকেট, ওভারকোট বা স্নিকার্স ব্যাগে পুরে জায়গা নষ্ট করবেন না। সেগুলি সফরের দিন নিজেই পরে নিন। এতে একদিকে যেমন ব্যাগের অনেকটা জায়গা ফাঁকা থাকবে, তেমনই বিমান বা ট্রেনের যাত্রাপথে অতিরিক্ত ওজনের ঝক্কিও পোহাতে হবে না।
৮. ময়লা কাপড়ের জন্য আলগা ব্যাগ
ভ্রমণের দিনগুলিতে ব্যবহৃত বা ময়লা হয়ে যাওয়া পোশাকগুলি ভাল কাপড়ের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবেন না। এর জন্য ব্যাগের এক কোণে একটি ছোট প্লাস্টিক বা কাপড়ের থলি রাখুন। এতে বাকি জিনিসপত্র পরিষ্কার ও সুগন্ধি থাকবে এবং ব্যাগও ছন্নছাড়া দেখাবে না।
৯. গোছানোর আগে হোক ‘চেকলিস্ট’
উত্তেজনার বশে প্যাকিং শুরু করার আগে শান্ত হয়ে একটি কাগজের টুকরোয় প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা বা ‘চেকলিস্ট’ বানিয়ে নিন। তালিকা মিলিয়ে ব্যাগে জিনিস তুললে অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন বাদ পড়বে, তেমনই টুথব্রাশ বা ফোনের চার্জারের মতো অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস ভুলে বাড়িতে ফেলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
১০. বুদ্ধিদীপ্ত প্যাকিংই আরামদায়ক সফরের চাবিকাঠি
সঠিক কৌশল জানা থাকলে একটি সাধারণ মাপের ব্যাগকেও জাদু বাক্স বানিয়ে তোলা সম্ভব। এর জন্য গায়ের জোর নয়, প্রয়োজন কিছুটা বুদ্ধির। এই ট্রিক্স মেনে চললে চেন বন্ধ করার জন্য আর কসরত করতে হবে না, আর আপনার বহু প্রতীক্ষিত সফরও হয়ে উঠবে ঝঞ্ঝাট হীন ও আরামদায়ক।