
'যত্র বিশ্বং ভবত্যেক নীড়ম' (Yatra Vishwam Bhavatyekanidam)- যার অর্থ, 'এখানে গোটা পৃথিবী যেন একই বাড়ির সদস্য।'। এটাই বিশ্বভারতীর মূলমন্ত্র (Visva- Bharati Motto)। এই বেদমন্ত্রেই কবিগুরুর (Rabindranath Tagore) বিশ্বভারতীর সত্য ও আদর্শ। শুধু বসন্ত উৎসব, পৌষ মেলা বা নন্দন মেলায় নয়, বছরভর শান্তিনিকেতনে (Santiniketan) ভিড় জমান লক্ষ লক্ষ পর্যটক। এক কথায় বলা যায়, বাঙালি তো বটেই, সেই সঙ্গে বিশ্বের বহু মানুষের আকর্ষণ এই শান্তিনিকেতন।
২০২৩ সালে বিশ্বভারতীকে (Visva -Bharati) বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো (UNESCO)। তবে কোভিডের সময় থেকে বন্ধ ছিল বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার সুযোগ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পর্যটকদের জন্য খুলেছিল বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস (Visva Bharati Campus)। 'হেরিটেজ ওয়াক' (Visva Bharati Heritage Walk) চালু করে বিশ্বভারতী।
প্রথমে রবিবার করে দেড় থেকে দু'ঘণ্টার জন্য এই 'ওয়াক' হলেও, পরবর্তী সময় সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন হতে পারে, একথা আগেই জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সেই কথা মতো আগামী সোমবার থেকে, সপ্তাহে ছয় দিন হেরিটেজ ওয়াক শুরু হচ্ছে বিশ্বভারতীর বিশ্ব-ঐতিহ্য প্রাঙ্গণে। এই সূচী অনুসারে, বৃহস্পতিবার ছাড়া রোজই আয়োজন হবে হেরিটেজ ওয়াকের।
শান্তিনিকেতন আশ্রম- পরিক্রমার সময়সূচী
* সোমবার- বেলা ৩.৩০ এবং বিকেল ৪.৩০
* মঙ্গলবার- ৩.৩০ এবং বিকেল ৪.৩০
* বুধবার - সকাল ১১টা, বেলা ৩.৩০ এবং বিকেল ৪.৩০
* বৃহস্পতিবার- বন্ধ
* শুক্রবার - বেলা ৩.৩০ এবং বিকেল ৪.৩০
* শনিবার- বেলা ৩.৩০ এবং বিকেল ৪.৩০
* রবিবার- সকাল ১০টা, ১১টা, বেলা ৩.৩০, ৪টে এবং ৪.৩০
টিকিট
আপাতত অফলাইনেই টিকিটের ব্যবস্থা থাকছে পর্যটকদের জন্য। আশ্রম পরিক্রমার টিকিট পাওয়া যাবে শুধুমাত্র রবীন্দ্রভবন টিকিট কাউন্টার থেকে। সাধারণ পর্যটকদের জন্য মাথাপিছু ৩০০ টাকা, দলগতভাবে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য মাথাপিছু ৫০ টাকা, পরিচয়পত্রধারী পৃথক ছাত্র- ছাত্রী পর্যটকদের জন্য মাথাপিছু ১৫০ টাকা এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য ১০০০ টাকা লাগবে।
গাইড
বিশ্বভারতী হেরিটেজ ওয়াকের জন্য গাইড হিসাবে কাজ করার জন্য চারজন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা প্রতিটি স্থানের ইতিহাস, তাৎপর্য সহ খুঁটিনাটি বর্ণনা করবেন। সকল গাইড বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি- এই তিন ভাষাতে কথা বলবেন, পর্যটকদের বোঝার চাহিদার ভিত্তিতে।
নিরাপত্তা ও আপৎকালীন ব্যবস্থা
ক্যাম্পাসে মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে। ফলে তাঁদের এবং পর্যটকদের যে কোনও রকম নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হেরিটেজ ওয়াকের সময় তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ২ জন নিরাপত্তা রক্ষী। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকবেন। এছাড়াও থাকছে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।