
২০১৪ সালে বিরাট স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগ নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই। কারণ যা পরিস্থিতি তাতে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন তো বটেই, ক্লাব জোটও কীভাবে এই লিগ পরিচালনা করতে পারবে সে ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। আদৌ কি হবে এবারের আইএসএল? আমরা যদি ৬ বছর আগে শুরু হওয়া আইপিএল-এর দিকে তাকাই তবে দেখা যাবে তা আজও দারুণ সফল।
কী কারণে এই দুই টুর্নামেন্টের মধ্যে এত ফারাক?
পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা
২০১৪ সালে রিলায়েন্স পরিচালিত এফএসডিএল চালু করে আইএসএল। বিদেশি তারকা, বিশ্বকাপার কোচ, উন্নত পরিকাঠামো স্বপ্ন দেখিয়েছিল ভারতবাসীকে। তবে বিরাট অঙ্কের টাকা পাওয়ায়, ক্রমশ ফুটবল ফেডারেশন কর্তারা অটো পাইলট মোডে চলে যান। ফলে সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকেই।
অন্যদিকে বিসিসিআই কখনই আইপিএল নিয়ে উদাসীন ছিল না। উল্টে আয়োজনের কাজ নিজেদের দায়িত্বে রাখা ভারতীয় বোর্ড পরিকাঠামো উন্নত করা, নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করতে মন দিয়েছে। ফলে যত দিন গিয়েছে ততই বড় হয়েছে আইপিএল-এর পরিসর। সেখানে তলানিতেই থেকে গিয়েছে আইএসএল ও ভারতীয় ফুটবল।
কত টাকা খরচ?
আইপিএল-এর ক্ষেত্রে প্রতি ম্যাচে খরচ যেখানে আনিমানিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। সেখানে গোটা আইএসএল-এর খরচ ধার্য করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে টাকার দিক থেকে পার্থক্য অনেকটাই বেশি। যদিও ১৭০ থেকে ১৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে গত বছর। ফলে বিনিয়োগ কম, লিগকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টাও প্রায় নেই বললেই চলে। পুরো আবেগ কলকাতা ও মূলত কেরল কেন্দ্রীক।
বিভিন্ন জায়গা থেকে দল না আসা
গুজরাত, লখনউয়ের মতো ফ্র্যাঞ্চেইজি শুরু থেকেই দারুণ পারফর্ম করেছে। আইএসএল-এর ক্ষেত্রে তা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ থেকে ইন্টার কাশি, পঞ্জাব থেকে পঞ্জাব এফসি উঠে এলেও, তাঁরা সেই রাজ্যে খেলে না। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সংস্থা থেকে শুরু করে কোনও সরকার সে ব্যাপারে সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ক্ষেত্রে এআইএফএফ-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে। অন্যদিকে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে রাজ্য সংস্থা তো বটেই, স্থানীয় প্রশাসনও সাহায্য করে।
ফ্যানবেসের পার্থক্য
মূলত বিনোদনমূলক এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির সাথে গভীর আবেগ আইপিএল-এর ক্ষেত্রে কম দেখা যায়। আসলে বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে নানা নামী অনামি ভারতীয় ক্রিকেটার নিজেদের দিনে হিরো হয়ে ওঠেন। তবে আইএসএল-এর ক্ষেত্রে তা হয় না। সেখানে শুধুই বিদেশী ফুটবলারদের দাপাদাপি। স্থানীয় দলগুলোর (যেমন মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট, ইস্টবেঙ্গল) প্রতি গভীর আবেগ এবং ডার্বি ম্যাচগুলিতে (যেমন কলকাতা ডার্বি) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে, যা ক্রিকেটে বিরল। তবে এই ম্যাচ ছাড়া, আর কোনও ম্যাচে এই আবেগ দেখা যায় না।
আইপিএল আসলে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক বিনোদন, আর আইএসএল ভারতের ফুটবলের ঐতিহ্য ও আবেগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনো আইপিএল-এর মতো সাফল্য ও প্রসার লাভ করতে পারেনি।