
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিকে কর্মফলদাতা ও ন্যায়ের দেবতা বলা হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্রহের তুলনায় শনির গতি ধীর হওয়ায় তাঁর রাশি পরিবর্তনের প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বর্তমানে শনি মীন রাশিতে বক্রী রয়েছে। ১১ ডিসেম্বর ২০২৬-এ ফের মার্গী হবে। এরপর প্রায় ২৪২ দিন পর, ৩ জুন ২০২৭-এ শনি মীন রাশি ছেড়ে মেষ রাশিতে প্রবেশ করবে। এই রাশি পরিবর্তনের সঙ্গে একাধিক রাশির সাড়ে সাতি ও ধাইয়ার সমীকরণেও পরিবর্তন আসবে। পাল্টে যাবে অনেকের জীবনই।
২০২৭ সালে শনির গোচর
৩ জুন ২০২৭-এ শনি মেষে প্রবেশ করলেও সেখানে দীর্ঘদিন থাকবে না। ৯ অগস্ট মেষ রাশিতে বক্রী হবে। ২০ অক্টোবর বক্রী অবস্থাতেই আবার মীন রাশিতে ফিরে আসবে। পরে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৭-এ মীনে শনির মার্গী হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ ২০২৭ সালে শনির গতিপথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাবে। এর প্রভাব পড়বে কাদের উপর?
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতকদের জন্য এই গোচর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শনি মেষ রাশিতে প্রবেশ করলে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়তে পারে। দ্রুত ফল পাওয়ার পরিবর্তে ধৈর্য ও নিয়মিত পরিশ্রমের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মীন রাশি
মীন রাশির জাতকদের ক্ষেত্রেও শনির এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হবে। ৩ জুনের পর সাড়ে সাতির পর্যায়ে পরিবর্তন হয়ে শেষ পর্যায় শুরু হবে। তবে ২০ অক্টোবর শনি ফের মীনে ফিরে আসায় পরিস্থিতি আবার বদলাবে। এই সময় খরচ, কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কুম্ভ রাশি
৩ জুন শনি মেষে যাওয়ার ফলে কুম্ভ রাশির জাতকদের সাড়ে সাতির প্রভাব শেষ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে ২০ অক্টোবর শনি মীনে ফিরলে সাড়ে সাতির শেষ পর্যায় আবার সক্রিয় হবে। তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
আর কাদের ওপর প্রভাব
শনির মেষ রাশিতে গোচরের সঙ্গে বৃষ রাশির জাতকদের সাড়ে সাতির প্রথম পর্ব শুরু হবে। তাই আর্থিক বিষয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করতে হবে। অত্যন্ত ভেবেচিন্তাহীন বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সিংহ ও ধনু রাশির জাতকদের উপর শনির ধাইয়ার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।