
Guru Gochar 2026: ২ জুন থেকে রাশি পরিবর্তন করতে চলেছেন দেবগুরু বৃহস্পতি। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ওই দিন কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবে গুরু গ্রহ। কর্কট বৃহস্পতির উচ্চ রাশি বলেই পরিচিত। তাই এই গোচরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা। বৃহস্পতি সাধারণত জ্ঞান, অর্থ, সৌভাগ্য এবং উন্নতির কারক গ্রহ হিসেবে পরিচিত হলেও, সব রাশির জন্য এই পরিবর্তন সুখকর নাও হতে পারে। বরং চার রাশির জাতকদের জীবনে বাড়তে পারে চাপ, অশান্তি এবং আর্থিক উদ্বেগ।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, বৃহস্পতির এই রাশি পরিবর্তনের প্রভাব আগামী কয়েক মাস ধরে অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে মেষ, মিথুন, তুলা এবং কুম্ভ রাশির জাতকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
মেষ রাশি
বৃহস্পতির এই গোচর মেষ রাশির চতুর্থ স্থানে ঘটতে চলেছে। এর ফলে পারিবারিক জীবনে কিছু অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বাড়ির পরিবেশ আগের মতো শান্ত নাও থাকতে পারে।
কর্মক্ষেত্রেও আচমকা কিছু পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারেন। সহকর্মী বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় আবেগে ভেসে বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভাল। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বা নতুন কাজে হাত দেওয়ার আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
মিথুন রাশি
মিথুন রাশির দ্বিতীয় স্থানে প্রবেশ করবে বৃহস্পতি। এই সময় অর্থনৈতিক বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অকারণে খরচ বেড়ে যেতে পারে।
পরিবারের মধ্যেও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময় কারও উপর অতিরিক্ত ভরসা না করাই ভাল। সঞ্চয়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
তুলা রাশি
তুলা রাশির দশম স্থানে বৃহস্পতির গোচর ঘটবে। ফলে কেরিয়ারে আচমকা কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। চাকরিক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়তে পারে। আবার কর্মস্থলে চাপও বাড়তে পারে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখার চেষ্টা করতে হবে। কোনও কাজ তাড়াহুড়ো করে করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ধৈর্য ধরে এগোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির ষষ্ঠ স্থানে বৃহস্পতির প্রবেশ স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। এই সময় শরীর নিয়ে অবহেলা না করাই ভাল। পুরনো কোনও শারীরিক সমস্যা ফের মাথাচাড়া দিতে পারে।
একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষেত্রেও কিছু বাধার মুখে পড়তে পারেন। আয় থাকলেও খরচ বেড়ে যেতে পারে। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময় অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনও গ্রহের গোচর স্থায়ী নয়। তাই খারাপ সময় এলেও ধৈর্য এবং সতর্কতা বজায় রাখলে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। নিয়মিত পুজোপাঠ, ইতিবাচক চিন্তা এবং সংযত জীবনযাপন এই সময় মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে বলেই মত জ্যোতিষীদের একাংশের।
দ্রষ্টব্য: রাশি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জ্যোতিষ ও লোকমতভিত্তিক। এগুলি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ বা সুপারিশ নয়।